রামপুরা বনশ্রীর বাসিন্দা ইয়াকুব আলী। রাত ৮টায় মৌচাক মার্কেট থেকে কেনাকাটা করে বাসায় ফিরবেন।
রিকশা খুঁজছিলেন। যাত্রীর তুলনায় রিকশার সংখ্যা কম। ‘রামপুরা যাবেন’ বলতে বলতেই পেয়ে যান একটি রিকশা।
রিকশায় উঠতেই একটি মেয়েলি কণ্ঠের অনুরোধ। ভাইয়া আমার বাসা ওদিকে। অনেকক্ষণ রিকশার জন্য দাঁড়িয়ে আছি। কিছু মনে না করলে আমি কি আপনার সঙ্গে যেতে পারি। প্রবাস ফেরত ইয়াকুব আলী চিন্তা করছিলেন কি করবেন? এরই মধ্যে ত্রিশোর্ধ্ব ওই নারী রিকশায় চেপে বসেন। নানা কথা বলে ইয়াকুবের পুরো পরিচয়, বাসার ঠিকানা জেনে নেন।
কেনাকাটা সম্পর্কে জানতে চাইলে ইয়াকুব বলেন, সময় কম তো তাই তেমন কেনাকাটা করতে পারিনি। রিকশা তখন রামপুরায়। রিকশার গতি কমে যায়। হঠাৎ ওই নারী বলে ‘তোর যা আছে সব দিয়ে নেমে যা। নইলে চিৎকার করব। তুই আমার রিকশায় জোর কইরা উঠছস। আমাকে আজে-বাজে কথা বলছস। ’
হতভম্ব হয়ে যান ইয়াকুব। কিছু বুঝে ওঠার আগেই রিকশার আশপাশে দাঁড়ায় কয়েক যুবক। ওই নারী বলে- ওরা আমার লোক। চিৎকার করলে মারও খাবি টাকাও দিবি। বাধ্য হয়ে পকেটে থাকা সাত হাজার টাকা তুলে দেন। এমনকি স্ত্রী ও বোনের জন্য কেনা দুটি শাড়িও। একই রকম ঘটনার শিকার হয়েছেন সিরাজগঞ্জের বদিউল আলম। ঘটনাটি ঘটেছে আগারগাঁও এলাকায়। রাত সাড়ে ১০টার দিকে ফার্মগেট এলাকায় এক নারীর সঙ্গে কথা হয় তার। বদিউল মিরপুর-১১ গামী বাসে চড়বেন। এই সময় এক সুন্দরী নারী তার সাহায্য চান। নারীটি বলেন, একই পথে যাবেন তিনি। রিকশায় গেলে ভালো হয়। বদিউল অই নারীর প্রলোভনে পড়ে রিকশা নেন। মিরপুরের দিকে যেতে থাকে রিকশায়। অল্প টাকার বিনিময়ে তালতলার বাসায় সময় কাটানোর প্রস্তাবে বদিউল খুব খুশি। রিকশা আগারগাঁও এলাকায় পৌঁছার পর রিকশাচালক থেমে যায়। জানায় রিকশার চেন পড়ে গেছে। ওই সময়ে কয়েক যুবক ঘেরাও করে মুহূর্তের মধ্যেই সবকিছু কেড়ে নেয়। রিকশায় থাকা বোরকা পরা নারীটিও যোগ দেয় যুবকদের সঙ্গে। দেখে বোঝার উপায় নেই, এরা বিশেষ একটি পেশার কাজ করেন! তাদের একমাত্র কাজ, পুরুষদের দৃষ্টি আকর্ষণ। কাঙ্ক্ষিত সেই পুরুষকে নির্ধারিত জায়গায় ডেকে নিয়ে সর্বস্ব লুট। এরা পেশাদার সংঘবদ্ধ চক্র। পোশাকে আভিজাত্যের ছাপ। দেখতেও সুন্দরী। শপিংমল, ব্যস্ততম সড়কের মোড়ে তাদের অবস্থান। দৃষ্টি এদিক-ওদিক। সুযোগ পেলেই ইশারায় কাছে ডাকে টার্গেট পুরুষদের। কথা বলে। সাহায্য চায়। কখনো সরাসরি প্রমোদের প্রস্তাব।
শুরুতেই জানিয়ে দেয়, ফ্ল্যাট বাসা আছে। ইচ্ছা হলে চলেন। দরদাম ঠিক করেই রিকশা বা সিএনজি অটোরিকশায় ওঠার পরই ঘটে ঘটনা। কখনো কখনো বাসা পর্যন্ত পৌঁছার পর প্রকাশ হয় সুন্দরীদের প্রকৃত রূপ। এ রকম একজন, দুজন না। কয়েক শ’ সুন্দরী ছড়িয়ে আছে ঢাকায়। তাদের মূল কাজ ছিনতাই। অস্ত্র ছাড়াই এই ভিন্ন কৌশলে সর্বস্ব ছিনিয়ে নেয় তারা। তাদের আশপাশে ছড়িয়ে থাকে সহযোগীরা। তারা সশস্ত্র। তারাও ছিনতাইকারী। এমনকি তাদের সহযোগিতা করার জন্য নির্দিষ্ট সিএনজি অটোরিকশা ও রিকশাচালক রয়েছে। রয়েছে এক শ্রেণির পুলিশ সদস্যও। এ ছাড়াও রিকশা ও গাড়ি থেকে ফোন, ট্যাব, ব্যাগ টেনে নিয়ে যায় এই চক্র। এমনকি গতিরোধ করে অস্ত্রের মুখে সর্বস্ব কেড়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটছে প্রায়ই। গোয়েন্দা সূত্র জানায়, এই নারী সিন্ডিকেটের নেতৃত্ব দেয় কমলাপুর ও মুগদা এলাকার ছবি, আনোয়ারা, যাত্রাবাড়ী ও সায়েদাবাদ এলাকায় পারুল ওরফে পারভীন, মায়া, লিজা, খালেদা, মিনু, জুরাইনের সালমা, হুমায়ুনের স্ত্রী সাথী, রুনা, বিজলি, মৌচাক, মালিবাগ, রামপুরা ও বাডডা এলাকায় হায়দারের স্ত্রী সাথী, রুমা, রত্না, লামিয়া, বিউটি, ফার্মগেটের ঝুমা ও রিয়া। এই নারী ছিনতাইকারীদের প্রতিটি গ্রুপে ১০ থেকে ১২ জন সদস্য রয়েছে।
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার বাসিন্দা ইউসুফ নবী। এই তো কিছুদিন আগে তিনি বিদেশ থেকে ফিরেছেন। পদুয়ার একটি পাহাড়ের গাছতলায় বসে আছেন। এটি তার পুরনো জায়গা। এখানেই অনেক সময় কাটিয়েছেন প্রেমিকা সুলতানার সঙ্গে। পাহাড়ের কাছেই তাদের বাড়ি। যখন-তখন চলে আসতেন দুজন। সেটি রাত বা দিন-যখনই হোক না কেন। তারা মিলিত হতেন।
কিন্তু বেশ কদিন ধরেই তাদের মনোমালিন্য চলছে। বিদেশ থেকে এসেই ইউসুফ ছুটে যান সুলতানার কাছে। কিন্তু সুলতানা অনেক পাল্টে গেছে। আগের মতো করে তাকে কাছে আর পেতে চায় না। এ কারণে ইউসুফের মনে খুব কষ্ট। কষ্ট মাঝেমধ্যে রাগে রূপ নেয়। তখন মুখে যা খুশি তাই বলেন সুলতানাকে। রাগ ধরে রাখতে পারেন না তিনি। আজ কী মনে করে সুলতানা ফোন দেয় ইউসুফকে। আসতে বলল সুখবিলাস পাহাড়ে তাদের সেই পুরনো জায়গায়। ফোন পেয়েই পাগলের মতো ছুটে এসেছেন ইউসুফ। অপেক্ষা করছেন তার প্রেমিকা সুলতানার জন্য।
পথের দিকে তাকিয়ে আছেন ইউসুফ। দেরি করায় অস্থির হয়ে পড়েছেন তিনি। বিকাল গড়িয়ে সন্ধ্যা। আঁধার নামতেই চলে এলেন সুলতানা। তাকে দেখে মহাখুশি ইউসুফ। যাক, সুলতানা তাহলে আগের মতোই আছে। সুলতানাকে দেখেই জড়িয়ে ধরতে চান ইউসুফ। সুলতানা বাধা দেয়। বলে, ‘এখানে না, বাড়িতে চলো’। পরম মমতায় ইউসুফের হাত ধরে সুলতানা। হাঁটতে হাঁটতে বলে, ‘তুমি এত অবুঝ কেন? এত খারাপ কথা কেউ তার ভালোবাসার মানুষকে বলতে পারে?’ এমন আবেগ জড়ানো কথা শুনে কষ্ট পান ইউসুফ। বলেন, ‘আমাকে ক্ষমা করো। ভুল হয়ে গেছে। তুমি যখন ভালো করে কথা না বল, তখন আমার মাথা ঠিক থাকে না।’
সুলতানার বাড়ি কাছেই। তারা বাড়িতে পৌঁছে যায়। ঘরে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে ইউসুফ নিজেই দরজা বন্ধ করে দেন। সুলতানা তাকে কাছে ডাকে। এগিয়ে যান ইউসুফ। কিন্তু ঘরের মধ্যেই আগে থেকে ঘাপটি মেরে থাকা ঘাতকরা ইউসুফের মাথায় আঘাত করে। মাথা ফেটে রক্ত বেরোয়। চিৎকার করতে পারেন না ইউসুফ। সুলতানাই তার মুখ চেপে ধরে। ঘরে থাকা আরও তিনজন তাকে জাপটে ধরে। মাটিতে শুইয়ে দেয়। চাপাতি দিয়ে গলায় পোচ চালাতে থাকে সুলতানা নিজেই। যতক্ষণ পর্যন্ত না শরীর থেকে মাথা আলাদা হয়েছে, ততক্ষণ পর্যন্ত তার হাত চলতে থাকে। মাথা আলাদা। ঘরে তখন রক্তের বন্যা। তাদের শরীর ভেজা রক্তে। শরীর আর মাথা নিয়ে তারা যায় সেই সুখবিলাস পাহাড়ে। দেহ এক স্থানে ফেলে রাখে। আর মাথা নিয়ে যায় পাহাড়ের আরেক স্থানে। সেখানে মাটিচাপা দিয়ে রাখে সেই মাথা। এসব করতে করতেই ভোরের আলো ফুটতে থাকে। সুলতানা তার সহযোগীদের নিয়ে লাপাত্তা।
২০১৪ সালের ৯ মার্চের ঘটনা এটি। ওমান-ফেরত ইউসুফ নবীর লাশ পাওয়া যায় পরদিন ১০ মার্চ সুখবিলাস পাহাড়ে। সুলতানা আর ইউসুফ দুজনই বিবাহিত ছিলেন। পরকীয়ায় জড়িয়ে নৃশংসভাবে খুনের শিকার হন ইউসুফ। গ্রেফতার হন সুলতানা। ফাঁস হয় তার ভয়ঙ্কর নিষিদ্ধ প্রেমের কাহিনী।
গ্রেফতারের পর সুলতানা পুলিশকে বলেন, স্বামীর অনুপস্থিতিতে ইউসুফ নবী বন্ধু হয়ে এসেছিল আমার। প্রথমদিকে তাকে প্রশ্রয় না দিলেও শেষটায় গড়ে ওঠে বন্ধুত্ব। ধারণা ছিল একাকিত্ব থেকে মুক্তি পাব। পেয়েও ছিলাম। কিন্তু শেষটায় নানা কারণে সেই বন্ধুত্বের সম্পর্ক অনেকটা তিক্ততায় পরিণত হয়। পরবর্তীতে জীবনকে অতিষ্ঠ করে তোলে নবী। প্রচণ্ড মানসিক চাপে রীতিমতো দিশাহারা হয়ে পড়ি। এ অবস্থা থেকে মুক্তি পেতেই পরিকল্পিতভাবে নিজ হাতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে গলা কেটে হত্যা করি। সহযোগীদের নিয়ে তার দেহ ফেলি নির্জন পাহাড়ি এলাকায়। আর মাথা পুঁতে রাখি মাটির নিচে। খুন করে ক্ষোভ মিটিয়েছি, তবে কয়েক ঘণ্টা পর বুঝতে পারি কাজটা ঠিক হয়নি।’ আদালতে ১৬৪ ধারায় দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে প্রবাস-ফেরত যুবক ইউসুফ নবীকে (৩৫) হত্যার এভাবেই বর্ণনা দেন গৃহবধূ সুলতানা আক্তার (৩২)।
সুলতানার স্বামী রেজাউল করিম দীর্ঘদিন ধরে ওমান প্রবাসী। চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার পদুয়ার মুখ স্কুলপাড়া গ্রামের মৃত নুর আহমদের ছেলে ইউসুফ নবী। ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে ওমান থেকে দেশে ফেরেন তিনি। ৯ মার্চ পদুয়া ইউনিয়নের সুখবিলাস পাহাড় থেকে পুলিশ তার মস্তকবিহীন লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনার পরের দিন ১০ মার্চ ভোরে ফেনীর ছাগলনাইয়ার অলিনগর এলাকা থেকে হত্যাকাণ্ডে জড়িত অভিযোগে সুলতানাসহ চারজনকে গ্রেফতার করে। তাদের নিয়ে যাওয়া হয় চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপারের দফতরে। সেখানে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে সুলতানা হত্যার কথা স্বীকার করেন। এরপর তার দেওয়া তথ্যমতে পুলিশ একই এলাকার জঙ্গল থেকে উদ্ধার করে নবীর খণ্ডিত মস্তক।
এ ঘটনায় নিহত ইউসুফ নবীর স্ত্রী মনোয়ারা বেগম বাদী হয়ে সুলতানাসহ চারজনকে আসামি করে রাঙ্গুনিয়া থানায় মামলা করেন। গোয়েন্দারা জানান, সুলতানার স্বামী বিদেশে যাওয়ার পর থেকে একই এলাকার ইউসুফ নবীর সঙ্গে তার ‘বন্ধুত্বে’র সম্পর্ক গড়ে ওঠে। যা অনৈতিক সম্পর্কে গড়ায়। পরবর্তীতে নবীও বিদেশে যান। আর নবী বিদেশ যাওয়ার পর থেকে একই এলাকার আরেক যুবক সুলতান আহমেদের (২৭) সঙ্গে একইভাবে ‘বন্ধুত্ব’ হয় সুলতানার। এ অবস্থায় জানুয়ারিতে দেশে ফেরেন নবী। আর নবী ফেরার পর বিষয়টি জানতে পারে। এ নিয়ে নবীর সঙ্গে মতবিরোধ তৈরি হয় সুলতানার। এক পর্যায়ে নবী বিষয়টি তার প্রবাসী স্বামীকে জানানোর হুমকি দেন।
এরই ফলশ্রুতিতে সুলতানা নবীকে বাড়িতে ডেকে এনে হত্যা করে। গোয়েন্দারা জানতে পারেন, নবীর ব্যক্তিগত কোনো শত্রু ছিল না। ফলে তার লাশ উদ্ধারের পর পুলিশ পড়ে চরম বিপাকে। কোনো ক্লু পাওয়া যাচ্ছিল না। পরবর্তীতে ব্যাপক অনুসন্ধানের পর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়। মামলার অপর আসামিরা হলেন সুলতান আহমেদ, সুলতানার ভাই ইস্কান্দার হোসেন ও বাবা ফারুক শাহ। তবে হত্যাকাণ্ডে ফারুক ও ইস্কান্দার জড়িত ছিলেন না। তারা ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর সুলতানাকে রক্ষা করতে লাশ গুমে সহায়তা করেন। নবীর কাছ থেকে ১ লাখ টাকা ধার নিয়েছিল সুলতানা (ছোট ভাইকে বিদেশে পাঠানোর জন্য)। সুলতান আহমেদের সঙ্গে সম্পর্ক জানাজানির পর থেকে নবী টাকার জন্য সুলতানাকে চাপ দিচ্ছিল। এ কারণেই সুলতানের প্ররোচনায় নবীকে হত্যার পরিকল্পনা করে সুলতানা। আর হত্যাকাণ্ডের পর সুলতানা তার প্রবাসী স্বামীকে ফোন করে জানায়, নবী খারাপ উদ্দেশে তার ঘরে প্রবেশ করেছিল। এ কারণে তাকে সে হত্যা করেছে। গ্রেফতারের পর সুলতানাকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন পড়েনি। সে নিজেই ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ২০১৪ সালের ১১ মার্চ আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। জবানবন্দি শেষে তাকেসহ আসামিদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পেটে কৃমি আছে কি না যেভাবে বুঝবেন এবং জেনে নিন মুক্তির উপায়।
হঠাৎ হঠাৎ পেটে ব্যথা বা মাথার যন্ত্রণা।
কিন্তু চিকিৎসকের কাছে যেতেই তিনি বলে দিচ্ছেন তেমন কিছুই হয়নি আপনার। সারাদিন শরীরে অ্স্বস্তি বোধ লেগেই রয়েছে। এটার কারণ একটাই হতে পারে, আর সেটা হল কৃমি। কিন্তু পেট ব্যথা আর মাথা যন্ত্রণাই শুধু নয়, আপনার শরীরে যে কৃমি বাসা বেঁধেছে, তা বোঝার জন্য আরও কয়েকটি উপসর্গ রয়েছে।
কী সেই উপসর্গগুলি?
============
অস্থিরতা, অকারণে অতিরিক্ত চিন্তা, অবসাদে ভোগা, আত্মহত্যাপ্রবণ হওয়া।
মিষ্টি জাতীয় খাবার খাওয়ার অতিরিক্ত ইচ্ছা।
রক্তাল্পতা এবং আয়রন ডেফিশিয়েন্সি। কৃমি থাকলে শরীরে রক্তের পরিমাণ কমতে কমতে অ্যানিমিয়া পর্যন্ত হতে পারে।
ত্বকের রোগে আক্রান্ত হওয়া, র্যা শ, অ্যাকনে, চুলকুনি ইত্যাদি হওয়া।
মাড়ি থেকে রক্তপাত হওয়া।
ঘুমনোর সময়ে মুখ থেকে লালা পড়া।
ফুড অ্যালার্জি।
খিদে না পাওয়া।
মেনস্ট্রুয়াল সাইকেলে সমস্যা।
অকারণে ক্লান্ত হয়ে পড়া।
গা-হাত-পা ব্যথা।
নিশ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া।
স্মৃতিভ্রম হওয়া।
উপসর্গগুলি পড়ে অনেকেই নিজেদের সমস্যার সঙ্গে মিল খুঁজে পাবেন, কারণ সমীক্ষা বলেছে ৮৫ শতাংশ মানুষের পেটে কৃমি থাকে। কিন্তু কীভাবে মুক্তি পাবেন কৃমির হাত থেকে! মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চিকিৎসক আব্রাম বের জানিয়েছেন, ওষুধ নয়, কিছু ঘরোয়া পদ্ধতিতেই কৃমি থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে।
কাঁচা রসুন— কাঁচা রসুন অ্যান্টিবায়োটিকের কাজ করে। রসুন প্রায় ২০ ধরনের ব্যাকটেরিয়া এবং ৬০ ধরনের ফাংগাস মেরে ফেলতে পারে। তাই নিয়মিত কুচনো কাঁচা রসুন খান অথবা রসুনের জুস করে খান।
লবঙ্গ— লবঙ্গ কলেরা, ম্যালেরিয়া, যক্ষ্মাকে প্রতিরোধ করতে পারে। এ ছাড়া রোজ লবঙ্গ খেলে ব্যাকটেরিয়া,ভাইরাস, ফাংগাস ইত্যাদি থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
আদা— আদা হজমের সমস্ত রকমের সমস্যা মেটাতে সক্ষম। হজমের সমস্যা, অ্যাসিডিটি, পেটে ইনফেকশন, ইত্যাদি দূর করতে আদার জুড়ি মেলা ভার। এই সমস্যাগুলিও কৃমি থেকে তৈরি হয়। তাই এই ধরনের সমস্যা দূর করতে কাঁচা আদার রস খান খালি পেটে।
শশার বীজ— ফিতাকৃমি রুখতে শশার দানা সর্বশ্রেষ্ঠ। শশার দানাকে গুঁড়ো করে নিন। প্রতিদিন এক চা-চামচ করে খান।
পেঁপে— পেটের সমস্যা দূর করতে পেঁপের থেকে ভাল কিছু হয় না। যে কোনও ধরনের কৃমি তাড়াতে পেঁপের বীজ শ্রেষ্ঠ। ভাল ফল পেতে পেঁপে এবং মধু খান।
কাঁচা হলুদ— কাঁচা হলুদ অ্যান্টিবায়োটিকের কাজ করে।
টেস্ট লেখা
>> <3 বঙ্গবন্ধুর আদর্শ <3 <<<
মনে রেখো শাসন করা তারই সাজে সোহাগ করে যে, তুমি যখন শাসন করবা-সোহাগ করতে শিখো, তাদের দুঃখের দিনে পাশে দাড়িও, তাদের ভালোবেসো, কারণ তোমার হুকুমে সে জীবন দিবে।
তোমাকে শ্রদ্ধা অর্জন করতে হবে, সে শ্রদ্ধা অর্জন করতে হলে তোমাকে শৃঙ্খলা শিখতে হবে, নিজকে সৎ হতে হবে, নিজকে/দেশকে ভালোবাসতে হবে, মানুষকে ভালোবাসতে হবে, এবং চরিত্র ঠিক রাখতে হবে, তা না হলে কোন ভালো কাজ করা যায় না।
আমার মুখ কালা করো না, দেশের মুখ কালা করো না, সাড়ে সাত কোটি মানুষের মুখ কালা করো না, তোমরা আদর্শবান হও, সৎ পথে থেকো, মনে রেখো-
“মুখে হাসি বুকে বল, তেজে ভরা মন,
মানুষ হইতে হবে, মানুষ যখন”
এতো রক্ত দেয়ার পর যে স্বাধীনতা এনেছি, চরিত্রের পরিবর্তন অনেকের হয় নাই, এখনো ঘুষখোর, দূর্নীতিবাজ, চোরাকারবারি, মুনাফাখোরি বাংলার দুঃখী মানুষের জীবনকে অতিষ্ঠ করে দিয়েছে, দীর্ঘ তিন বছর পর্যন্ত, এদের আমি অনুরোধ করেছি, আবেদন করেছি, হুমকি দিয়েছি- “চোরা নাহি শোনে ধর্মের কাহিনী”
কিন্তু আর না, বাংলার মানুষের জন্য আমি জীবনের যৌবন আমি কারাগারে কাটিয়ে দিয়েছি, এ মানুষের দুঃখ দেখলো আমি পাগল হয়ে যাই, কাল যখন আমি আসতেছিলাম ঢাকা থেকে এতো দুঃখের মধ্যে না খেয়ে কষ্ট পেয়েছে, গায়ে কাপড় নাই, কত অসুবিধার মধ্যে বাস করতেছে, হাজার হাজার লক্ষ লক্ষ লোক দু-পাশে দাড়িয়ে আছে আমাকে দেখবার জন্য, আমি মাঝে মাঝে প্রশ্ন করি তোমরা আমাকে এতো ভালোবাসো কেন?।
কিন্তু এই দুঃখী মানুষ দিনভরে পরিশ্রম করে, তাদের গায়ে কাপড় নাই, তাদের পেটে খাবার নাই, তাদের বাসস্থানের বন্দোবস্ত নাই, লক্ষ লক্ষ বেকার, পাকিস্তানিরা সর্বস্ব লুট করে নিয়ে গেছে, কাগজ ছাড়া আমার কাছে কোন কিছু রেখে যায় নাই।
বিদেশ থেকে ভিক্ষা করে আমাকে আনতে হয়, আর এই চোরের দল আমার দুঃখী মানুষের সর্বনাশ করে লুটরাজ করে খায়।
আমি শুধু ইমার্জেন্সী নেই নাই, এর আমি প্রতিজ্ঞা করেছি, এই ২৫ বছর এই পাকিস্তানি জালেমদের বিরুদ্ধে জিন্নাহ থেকে আরম্ভ করে, গোলাম মোহম্মদ, চৌধুরী মোহাম্মদ আলী, আইয়ুব খান, ইয়াহইয়াহ খানের বিরুদ্ধে বুকের পাটা টান করে সংগ্রাম করে থাকতে পারি, আর আমার ৩০ লক্ষ লোকের জীবন দিয়ে স্বাধীনতা অর্জন করতে পারি, তাহলে পারবো না!! নিশ্চয়ই ইনশাআল্লাহ্ পারবো।
এই বাংলার মাটি থেকে দুর্নীতিবাজ, এই ঘুষখোর, এই মুনাফাখোর জাতকে নির্মুল করতে হবে, আমিও প্রতিজ্ঞা নিয়েছি, তোমরাও প্রতিজ্ঞা নাও, বাংলার জনগণও প্রতিজ্ঞা গ্রহণ করো, আর নাহ্, অসহ্যের সীমা হারিয়ে ফেলেছি, এই জন্য জীবনের যৌবন নষ্ট করি নাই, এই জন্য শহীদরা রক্ত দিয়ে যায় নাই।
কয়েকটা চোরকারবারি, মুনাফাখোর, ঘুষখোর দেশের সম্পদ বাইরে বাইরা কইরা দিয়াসে, জিনিসের দাম গুদাম করে মানুষকে না খাওয়াইয়া মারে, উৎখাত করতে হবে বাংলার বুকের থেকে এদের, দেখি কতক্ষণ তারা টিকতে পারে, চোরের শক্তি বেশি না ঈমানদারের শক্তি বেশি তা এবার প্রমাণ হইয়া যাবে....
জন সচেতনতামূলক পোস্ট।
যারা বাচ্চাকাচ্চাদের হরলিক্স, কমপ্ল্যান, বুস্ট,মালটোভা ইত্যাদি খাওয়ান তাদের জন্যে এই লেখাটা পড়া জরুরী বলে মনে করছি।
ইন্ডিয়া তে হরলিক্স এর “টলার,স্টংগার, শার্পার” বিজ্ঞাপন চরম তুঙ্গে । একই হরলিক্স এর বিজ্ঞাপন প্রচার করছিল নেপালী এক চ্যানেল। নেপালী সেই চ্যানেল ব্রডকাস্ট হচ্ছিল লন্ডনের কিছু নেপালী পাড়ায়।
লন্ডনের এক এডভোকেট তো সেই বিজ্ঞাপন দেখে আকাশ থেকে পড়লেন। কারন ব্রিটেনে “ঘুমের পিল” এইড হিসেবে খাওয়ানো হয় হরলিক্স মল্টেড দুধকে। সেটা কিভাবে টলার স্ট্রংগার শার্পার করে সেটা জানতে আইনী নোটিশ পাঠিয়ে দেন। পরে সেই দেশে এই বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ করা হয় সরকারী ভাবে। তারা তখন মস্করা করেই বলেছিল- “দক্ষিন এশিয়ানরাই এই সব জিনিস খাবার হিসেবে খাবে”। তাই হচ্ছে আজকাল আমাদের দেশে।
আমাদের দৈনিক খাবারের আইডিয়াল মেনু কে “RDA” বলে । আর ব্যালেন্সড ডায়েট হইতে যা যা লাগে তার খুব সামান্যই আছে এইসব খাবারে । আসল কথা হলো- হরলিক্স অথবা কমপ্লান এর মত খাবার US FDA এপ্রুভড না। তবুও সবাই খাচ্ছে মুড়ির মত। আর বিজ্ঞাপনের প্যাচে পড়ে – সব পুষ্টিগুনের আশায়
ভাত মাছ বাদ দিয়া হরলিক্স আর কমপ্লান নিয়া পইড়া থাকে মায়েরা।
“বর্নভিটা” নামক আরেক দুধ কোম্পানী দাবী করে – তাদের দুধে দৈনিক চাহিদার ৪০% ভাগ প্রোটিন চাহিদা পুরণ করে। অথচ তাদেরি ফাইন প্রিন্টে লেখা আছে বর্নভিটার দুধে খুব সামান্যই প্রোটিন আছে। খাড়ার উপ্রে কেমনে কথা ঘুরায়ালায় এরা।
হরলিক্স এবং কমপ্লান দুইটা কোম্পানীই দাবী করে তাদের দুধে সুষম পরিমানে প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট, ফ্যাট, ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস রয়েছে। কিন্তু কমপ্লানে প্রতি ১০০ গ্রামে এদের পরিমান যথাক্রমে ১৮ গ্রাম, ৬২ গ্রাম, ১১ গ্রাম, ৮০০ মিগ্রা ও ৭৮০ মিগ্রা । আর সেখানে হরলিক্সে প্রতি ১০০ গ্রামে এদের পরিমান যথাক্রমে – ১১ গ্রাম, ১৪ গ্রাম, ২ গ্রাম, ৭৪১ মিগ্রা ও ২৮০ মিগ্রা। এদের তুলনায় বর্নভিটা ও বুস্টে এদের পরিমান অনেক কম থাকে।
তাহলে এখন বলুন কোনটা আসলে সুষম। দামের হিসাবে কিন্তু সবাই একই সমান প্রায়। সুতরাং আপনার শিশুর পুষ্টি চাহিদা ডায়েটিশিয়ানের কাছে গিয়ে করুন। বিজ্ঞাপনে মুগ্ধ হয়ে ভুল বুঝে না।
যাই হোক- জীবনের প্রথম ৬ মাস মায়ের দুধের কোনো বিকল্প নাই। কিন্তু বছরের পর বছর যদি বাচ্চা কে সাপ্লিমেন্টারি ফুড না দিয়ে দুধের উপর নির্ভরশীল করে ফেলেন , তাহলে “মিল্ক ইঞ্জুরি” নামক রোগের শিকার হতে পারে আপনার বাচ্চা। সেই বাচ্চা ফুলাফাপা থাকবে (edematous) প্রোটিনের অভাবে। কিন্তু ভিতর দিয়া সব ধরনের নিউট্রিশনাল ডেফিসিয়েন্সি তে ভুগবে। তখন কই যাইবো গিয়া টলার স্ট্রংগার শার্পার।
# বিজ্ঞাপন মানুষের মাথায় ভুত হিসেবে ঢুকছে। আপনার বিবেচনা ও বিবেককে নষ্ট করে দিচ্ছে।
সচেতন হোন নিজের জন্য। নিজের সন্তানের জন্য।
বাংলাটা ঠিক আসে না! – ভবানীপ্রসাদ মজুমদার
ছেলে আমার খুব ‘সিরিয়াস’ কথায়-কথায় হাসে না
জানেন দাদা, আমার ছেলের, বাংলাটা ঠিক আসেনা।
ইংলিশে ও ‘রাইমস’ বলে
‘ডিবেট’ করে, পড়াও চলে
আমার ছেলে খুব ‘পজেটিভ’ অলীক স্বপ্নে ভাসে না
জানেন দাদা, আমার ছেলের, বাংলাটা ঠিক আসে না।
শুনুন এই কবিতাটির আবৃত্তি:
‘ইংলিশ’ ওর গুলে খাওয়া, ওটাই ‘ফাস্ট’ ল্যাঙ্গুয়েজ
হিন্দি সেকেন্ড, সত্যি বলছি, হিন্দিতে ওর দারুণ তেজ।
কী লাভ বলুন বাংলা প’ড়ে?
বিমান ছেড়ে ঠেলায় চড়ে?
বেঙ্গলি ‘থার্ড ল্যাঙ্গুয়েজ’ তাই, তেমন ভালোবাসে না
জানে দাদা, আমার ছেলের, বাংলাটা ঠিক আসে না।
বাংলা আবার ভাষা নাকি, নেই কোনও ‘চার্ম’ বেঙ্গলিতে
সহজ-সরল এই কথাটা লজ্জা কীসের মেনে নিতে?
ইংলিশ ভেরি ফ্যান্টাসটিক
হিন্দি সুইট সায়েন্টিফিক
বেঙ্গলি ইজ গ্ল্যামারলেস, ওর ‘প্লেস’ এদের পাশে না
জানেন দাদা, আমার ছেলের, বাংলাটা ঠিক আসে না।
বাংলা যেন কেমন-কেমন, খুউব দুর্বল প্যানপ্যানে
শুনলে বেশি গা জ্ব’লে যায়, একঘেয়ে আর ঘ্যানঘ্যানে।
কীসের গরব? কীসের আশা?
আর চলে না বাংলা ভাষা
কবে যেন হয় ‘বেঙ্গলি ডে’, ফেব্রুয়ারি মাসে না?
জানেন দাদা, আমার ছেলের, বাংলাটা ঠিক আসে না।
ইংলিশ বেশ বোমবাস্টিং শব্দে ঠাসা দারুণ ভাষা
বেঙ্গলি ইজ ডিসগাস্টিং, ডিসগাস্টিং সর্বনাশা।
এই ভাষাতে দিবানিশি
হয় শুধু ভাই ‘পি.এন.পি.সি’
এই ভাষা তাই হলেও দিশি, সবাই ভালোবাসে না
জানেন দাদা, আমার ছেলের, বাংলাটা ঠিক আসেনা।
বাংলা ভাষা নিয়েই নাকি এংলা-প্যাংলা সবাই মুগ্ধ
বাংলা যাদের মাতৃভাষা, বাংলা যাদের মাতৃদুগ্ধ
মায়ের দুধের বড়ই অভাব
কৌটোর দুধ খাওয়াই স্বভাব
ওই দুধে তেজ-তাকত হয় না, বাংলাও তাই হাসে না
জানেন দাদা, আমার ছেলের, বাংলাটা ঠিক আসেনা।
বিদেশে কী বাংলা চলে? কেউ বোঝে না বাংলা কথা
বাংলা নিয়ে বড়াই করার চেয়েও ভালো নিরবতা।
আজ ইংলিশ বিশ্বভাষা
বাংলা ফিনিশ, নিঃস্ব আশা
বাংলা নিয়ে আজকাল কেউ সুখের স্বর্গে ভাসে না
জানেন দাদা, আমার ছেলের, বাংলাটা ঠিক আসেনা।
শেক্সপীয়র, ওয়ার্ডসওয়ার্থ, শেলী বা কীটস বা বায়রন
ভাষা ওদের কী বলিষ্ঠ, শক্ত-সবল যেন আয়রন
কাজী নজরুল- রবীন্দ্রনাথ
ওদের কাছে তুচ্ছ নেহাত
মাইকেল হেরে বাংলায় ফেরে, আবেগে-উচছ্বাসে না
জানেন দাদা, আমার ছেলের বাংলাটা ঠিক আসেনা।
ছেলে আমার খুব ‘সিরিয়াস’ কথায়-কথায় হাসে না
জানেন দাদা, আমার ছেলের, বাংলাটা ঠিক আসেনা।
ইংলিশে ও ‘রাইমস’ বলে
‘ডিবেট’ করে, পড়াও চলে
আমার ছেলে খুব ‘পজেটিভ’ অলীক স্বপ্নে ভাসে না
জানেন দাদা, আমার ছেলের, বাংলাটা ঠিক আসে না।
শুনুন এই কবিতাটির আবৃত্তি:
‘ইংলিশ’ ওর গুলে খাওয়া, ওটাই ‘ফাস্ট’ ল্যাঙ্গুয়েজ
হিন্দি সেকেন্ড, সত্যি বলছি, হিন্দিতে ওর দারুণ তেজ।
কী লাভ বলুন বাংলা প’ড়ে?
বিমান ছেড়ে ঠেলায় চড়ে?
বেঙ্গলি ‘থার্ড ল্যাঙ্গুয়েজ’ তাই, তেমন ভালোবাসে না
জানে দাদা, আমার ছেলের, বাংলাটা ঠিক আসে না।
বাংলা আবার ভাষা নাকি, নেই কোনও ‘চার্ম’ বেঙ্গলিতে
সহজ-সরল এই কথাটা লজ্জা কীসের মেনে নিতে?
ইংলিশ ভেরি ফ্যান্টাসটিক
হিন্দি সুইট সায়েন্টিফিক
বেঙ্গলি ইজ গ্ল্যামারলেস, ওর ‘প্লেস’ এদের পাশে না
জানেন দাদা, আমার ছেলের, বাংলাটা ঠিক আসে না।
বাংলা যেন কেমন-কেমন, খুউব দুর্বল প্যানপ্যানে
শুনলে বেশি গা জ্ব’লে যায়, একঘেয়ে আর ঘ্যানঘ্যানে।
কীসের গরব? কীসের আশা?
আর চলে না বাংলা ভাষা
কবে যেন হয় ‘বেঙ্গলি ডে’, ফেব্রুয়ারি মাসে না?
জানেন দাদা, আমার ছেলের, বাংলাটা ঠিক আসে না।
ইংলিশ বেশ বোমবাস্টিং শব্দে ঠাসা দারুণ ভাষা
বেঙ্গলি ইজ ডিসগাস্টিং, ডিসগাস্টিং সর্বনাশা।
এই ভাষাতে দিবানিশি
হয় শুধু ভাই ‘পি.এন.পি.সি’
এই ভাষা তাই হলেও দিশি, সবাই ভালোবাসে না
জানেন দাদা, আমার ছেলের, বাংলাটা ঠিক আসেনা।
বাংলা ভাষা নিয়েই নাকি এংলা-প্যাংলা সবাই মুগ্ধ
বাংলা যাদের মাতৃভাষা, বাংলা যাদের মাতৃদুগ্ধ
মায়ের দুধের বড়ই অভাব
কৌটোর দুধ খাওয়াই স্বভাব
ওই দুধে তেজ-তাকত হয় না, বাংলাও তাই হাসে না
জানেন দাদা, আমার ছেলের, বাংলাটা ঠিক আসেনা।
বিদেশে কী বাংলা চলে? কেউ বোঝে না বাংলা কথা
বাংলা নিয়ে বড়াই করার চেয়েও ভালো নিরবতা।
আজ ইংলিশ বিশ্বভাষা
বাংলা ফিনিশ, নিঃস্ব আশা
বাংলা নিয়ে আজকাল কেউ সুখের স্বর্গে ভাসে না
জানেন দাদা, আমার ছেলের, বাংলাটা ঠিক আসেনা।
শেক্সপীয়র, ওয়ার্ডসওয়ার্থ, শেলী বা কীটস বা বায়রন
ভাষা ওদের কী বলিষ্ঠ, শক্ত-সবল যেন আয়রন
কাজী নজরুল- রবীন্দ্রনাথ
ওদের কাছে তুচ্ছ নেহাত
মাইকেল হেরে বাংলায় ফেরে, আবেগে-উচছ্বাসে না
জানেন দাদা, আমার ছেলের বাংলাটা ঠিক আসেনা।
পবিত্র কোরআন-হাদীসের ৩ শতাধিক অমূল্য বাণী সমূহ; যা আমাদের পথচলায় গুরুত্বপূর্ণ, জানতে হবে | Jante Hobe এর পক্ষ থেকে মুসলিম ভাই বোনদের জন্য উপস্থাপন করা হলো। আল্লাহ সকলকে জানার ও আমল করার তৌফিক দান করুন:
* (তোমরা) নিজেদের কাতারগুলোকে সমান করো এই কারণে যে, কাতার সমান করা নামাযকে পূর্ণ করার অন্তর্ভূক্ত। - বুখারী ও মুসলিম।
* আল্লাহতো আকাশসমূহের এবং এ দুয়ের মাঝে যা কিছু আছে, সবকিছুর মালিক। তার শক্তি সবকিছুর ওপর পরিব্যাপ্ত। - মায়িদা- ১৭
* আমাকে মুসলিম হয়ে থাকার এবং এ কুরআন পড়ে শোনাবার আদেশ দেওয়া হয়েছে। - নামল: ৯১
* কোন বোঝা বহনকারী অন্যের বোঝা বহন করবে না। - বনী ইসরাইল: ১৫
* নিশ্চয়ই আল্লাহ নিজ হাতে যাকে ইচ্ছা তাকে, সব অনুগ্রহ প্রদান করেন। আর আল্লাহ অনুগ্রহশীল, সুমহান।- হাদীস: ২৯
* অশ্লীলতা যে কোন জিনিসকেই নষ্ট করে দেয়, আর লজ্জাশীলতা যেকোন জিনিসকেই সৌন্দর্যময় করে তোলে। - তিরমিযী
*আর তোমরা যেসব কাজ করো, তা থেকে তোমার রব উদাসীন নন। নামল: ৯৩
* মুমিন কখনো ব্যঙ্গ বিদ্রুপকারী ও তিরস্কারকারী হতে পারে না। তেমনি সে পারে না লানতকারী, অশ্লীলভাষী ও প্রলাপকারী হতে। তিরমিযী।
* তার ব্যয় করে শুধু লোকদের দেখানোর জন্য, আর তারা আল্লাহর স্মরণও করে, কিন্তু খুব কম পরিমাণে। - নিসা: ১৪২
* আল্লাহর দোহাই পেড়ে একমাত্র জান্নাত ছাড়া অন্য কিছু প্রার্থনা করা সমীচীন নয়। আবু দাউদ
* আর তাদেরকে তো এ আদেশই দেওয়া হয়েছিলো যে, এখলাসের সাথে একমুখী হয়ে আল্লাহর বন্দেগী করো। - বাইয়্যিনাহ্: ০৫
* যারা এতিমের মাল অবৈধভাবে খেয়ে ফেলে, তারা নিজেদের পেটে আগুন ভর্তি করে এবং দোযখে নিক্ষিপ্ত হয়।- সূরা নিসা: ১০
* প্রশংসা আল্লাহ তায়ালার জন্য এবং সালাম তার এমন সব বান্দাহের প্রতি, যাদেরকে তিনি নির্বাচিত করেছেন।- নামল: ৫৯
* নিজের দান, সাদাকাহ এবং দাক্ষিণা প্রদর্শন করে এবং কষ্ট দিয়ে সেই লোকের মত বরবাদ করে দিওনা, যে লোকদের দেখাবার জন্য মাল খরচ করে। - বাকারা: ২৬৪
* নিজের দানকৃত মাল ফেরত নেয়, সে এমন ব্যক্তির মতো, যে নিজের বমিকে নিজেই চেটে খায়। - বুখারী।
* তাদের মতো হয়ে যেয়ো না, যারা বললো, আমরা শুনেছি: অথচ তারা শুনে না। -আনফাল: ২১
* সালেহ বললো, ‘হে জাতির লোকেরা! কল্যাণের পূর্বে তোমরা মন্দকে ত্বরান্বিত করতে চাচ্ছ কেন? আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছ না কেন?’।- নামল : ৪৩
* হে আল্লাহ! আমার থেকে হালকা হিসাব নাও।- আল হাদীস
* গুনাহগার লোকেরা অনন্তকাল ধরে জাহান্নামের শাস্তি ভোগ করতে থাকবে।-যুখরুফ: ৭৪
* আল্লাহ তোমাদের আদেশ করছেন যে, আমানতদারদের আমানত তাদের কাছে ফিরিয়ে দাও। - নিসা: ৫৮
* হে ঈমানদারগণ! নিজেদের দানখয়রাতকে খোটা দিয়ে এবং মানসিক কষ্ট দিয়ে বরবাদ করে দিও না।- বাকারা: ২৬৪
* তুমি নিজেকে খুব পাকসাফ বলে জাহির করো না। যে ব্যক্তি পরহেজগার সে এ ব্যাপারে খুব ভালোভাবে অবহিত। - আন নাযম:৩২
* করুণাময় যাকে অনুমতি দিবেন এবং যার কথায় তিনি সন্তুষ্ট হবেন, সে ব্যতীত কারো কোন সুপারিশ সেদিন কাজে আসবে না। - ত্ব হা: ১০৯
* আর, গুনাহ ও জুলুমের ব্যাপারে সাহায্য করো না।- মায়িদাহ: ০২
* সেদিন কোন মানুষই একজন আরেকজনের দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারবে না। ফয়সালা একমাত্র আল্লাহর এখতিয়ারে থাকবে।- ইনফিতার: ১৯
* মুসলমানেরা হচ্ছে পরস্পরের ভাই-ভাই। সুতরাং আপন দুই ভাইয়ের মধ্যে সন্ধি করিয়ে দাও। -হুযরাত: ১০
* সেদিন মানুষ পালাতে থাকবে নিজের ভাই, মা, পিতা, স্ত্রী ও ছেলেমেয়েদের থেকে। - আবাসা: ৩৪-৩৬
*হে আল্লাহ্! যখন তুমি আমাদেরকে সোজা পথে চালিয়েছে, তখন আর আমাদের অন্তরকে বক্রতায় আচ্ছন্ন করে দিও না! তোমার দানভান্ডার থেকে আমাদের জন্য রহমত দান কর, কেননা তুমিই আসল দাতা।- আলে ইমরান: ০৮
* হে আমাদের রব, আমরা ঈমান এনেছি, আমাদের গুনাহ্ মাফ করে দাও এবং জাহান্নামের আগুন থেকে আমাদের বাঁচাও।- আলে ইমরান: ১৬
* আপন ভাইয়ের মুসিবতে আনন্দ প্রকাশ করো না। কেননা এতে আল্লাহ তার ওপর রহম করবেন এবং তোমায় মুসিবতে নিক্ষেপ করবেন। তিরমিযী।
* তোমাদের কেউ যখন দোয়া করবে, তখন পূর্ণাঙ্গ বিশ্বাস ও দৃঢ়তার সাথে দোয়া করবে। -বুখারী ও মুসলিম
* তোমরা যদি শোকর আদায় করো, তাহলে আমি তোমাদের অনেক বেশী দান করবো। -ইবরাহীম: ০৭
* আর আল্লাহর পাকড়াও বড়ই কঠিন। -আনফাল: ১৩
* কোন ব্যক্তি আল্লাহর দোহাই পেড়ে আশ্রয় চাইলে আশ্রয় দান করো। কেউ আল্লাহর নাম নিয়ে কিছু চাইলে তাকে কিছু দান করো। - আবু দাউদ
* মুমিনরা তো পরস্পরের ভাই-ভাই স্বরূপ। -হুজরাত: ১০
* তোমরা কোন পণ্য বিক্রির সময় বেশী বেশী হলফ করা থেকে বিরত থাকো, কেননা এতে বিক্রি হলেও বরকত ধ্বংস হয়ে যায়।- মুসলিম
* বাম হাত দিয়ে কোন খাবার খেয়ো না। কারণ, শয়তান বাম হাত দিয়ে খাবার খায়।- মুসলিম।
* তিনি চোখের খিয়ানতের কথা জানেন; আর যেসব বিষয় বুকের মাঝে গোপন থাকে, সেগুলোকেও জানেন।- সূরা গাফির: ১৯ (সূরা মুমিন)
* যে ব্যক্তি এমন কাজ করলো, যে বিষয়ে আমাদের কোন সম্মতি বা অনুমোদন নেই, তা প্রত্যাখ্যাত। - মুসলিম
* আপন ভাইয়ের মুসিবতে আনন্দ প্রকাশ করো না। কেননা এতে আল্লাহ তার ওপর রহম করবেন এবং তোমায় মুসিবতে নিক্ষেপ করবেন। - তিরমিযী
* তোমরা নিজেদেরকে কুধারণা পোষণ থেকে বাচাও। কেননা, কুধারণা পোষণ হচ্ছে সবচেয়ে বড় মিথ্যা। -বুখারী ও মুসলিম
* আল্লাহ অবশ্যই মুমিনদের সাথে রয়েছেন। - আনফাল: ১৬
* হে ঈমানদারগণ! তোমরা খুব বেশী ধারণা পোষণ করা থেকে বিরত থাকো। কেননা, কোন কোন কুধারণা গুনাহের কারণ হয়ে দাড়ায়।- হুজরাত: ১২
* নিশ্চিত ধ্বংস এমন সব প্রতিটি ব্যক্তির জন্য, যে মুখোমুখি লোকদেরকে গালমন্দ এবং (পিছনে) তার নিন্দা প্রচারে অভ্যস্ত।- হুমাযাহ: ১০
* কোন লোকের জন্য এতটুকু মন্দই যথেষ্ট যে, সে তার মুসলমান ভাইকে অবজ্ঞা করে। - মুসলিম
* কবিরা গুনাহ হলো আল্লাহর সাথে শিরক করা, পিতামাতার নাফরমাণী করা, কোন ব্যক্তিকে হত্যা এবং মিথ্যা হলফ করা। - বুখারী
* অবশ্যই আল্লাহ তায়ালা সবকিছু জানেন ও শোনেন। - আনফাল: ১৭
* আর তোমাদের প্রভূ বলেছেন, তোমরা আমার কাছে দুআ করো, আমি তোমাদের দুআ কবুল করবো।- ফাতির: ৬০
* তোমরা একে অপরের গোপন বিষয়গুলো সম্পর্কে খোজাখুজি করো না।- হুজরাত: ১২
* তোমাদের মধ্যে কোন ব্যক্তি, কোন নারীর সাথে নির্জনে একাকী সাক্ষাৎ করবে না; তবে সঙ্গে দু’জন মুহরিম থাকলে ভিন্ন কথা।- মুসলিম
* তোমরা নিজেদের হিংসা থেকে বাঁচাও। কারণ, হিংসা কাজগুলোকে ঠিক সেভাবে খতম করে দেয়, যেভাবে আগুন লাকড়িকে বা ঘাসকে খেয়ে ফেলে। - আবু দাউদ
* রাসূল (সা:) সে ব্যক্তিকে অভিশপ্ত আখ্যা দিয়েছেন, যে নারীদের ন্যায় পোষাক পরিধান করে এবং সেই নারীকেও, যে পুরুষের ন্যায় পোষাক পরিধান করে।- আবু দাউদ
* মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল। আর যারা তার সঙ্গী সাথী, তারা কাফিরদের প্রতি কঠোর এবং পরস্পর রহম দিল।- সূরা ফাতহ্: ২৯
* রাসূল (সা:) বলেছেন, অপরিচিত নারীদের কাছে যাওয়া থেকে বিরত থাকো।-বুখারী ও মুসলিম।
* মুসলমান হলো সেই ব্যক্তি, যার জিহ্বা ও হাত থেকে অন্য মসুলমান নিরাপদ থাকে। আর প্রকৃত মুহাজির হলো সেই ব্যক্তি, যে আল্লাহর নিষিদ্ধ কাজগুলোকে ছেড়ে দেয়। - বুখারী ও মুসলিম
* মুসলমানকে গালি দেওয়া ফাসিকী এবং তাদের সাথে যুদ্ধ করা কুফরী।- বুখারী ও মুসলিম
* দুই ব্যক্তি যখন একে অপরকে গালাগালি করে, তখন তার অপরাধ সূচনাকারীর ওপর বর্তায়। অবশ্য যদি মজলুম বাড়াবাড়ি না করে। -মুসলিম
* জেনে রেখ, জালিমদের প্রতি আল্লাহর লানত।- সূরা হূদ: ১৮
* কোন ব্যক্তির ওপর বেশী লানত করা, কোন সত্যবাদীর (সিদ্দিকের) পক্ষে সমীচীন নয়। - মুসলিম
* কোন ব্যক্তি যদি হলফ করতে চায়, সে যেন আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো হলফ না করে কিংবা নীরব থাকে। -বুখারী
* যখন নবীর স্ত্রীদের কাছে কোন মুসলমান চাইবে, তখন পর্দার বাইরে থেকে চেয়ো। - আহযাব: ৫৩
* রিয়া করা হচ্ছে শিরক করার সমতুল্য।- তিরমিযী
* এক ব্যক্তি, অপর ব্যক্তির লজ্জাস্থান দেখবে না, না কোন নারী, অপর নারীর লজ্জাস্থান দেখবে। -মুসলিম
* রাতের (নফল) নামায হলো দুই দুই রাকায়াতের; তোমরা যখন সকাল হবার ভয় করবে, তখন এক রাকায়াত বিতর পড়বে।- বুখারী ও মুসলিম
* আমি রাসূল (সা:) কে হঠাৎ কারো প্রতি দৃষ্ট পড়া সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, তোমরার নিজের দৃষ্টি ফিরিয়ে নেবে।- মুসলিম
* রাসূল (সা:) মসজিদে কেনাবেচা করতে, হারানো জিনিস খোজাখুজি করতে এবং কবিতা আবৃত্তি করতে নিষেধ করেছেন।- আবু দাউদ
* নি:সন্দেহে তোমাদের প্রভূ ঘাঁটিতে ওঁৎ পেতে আছেন।- সূরা ফজর : ১৪
* কিয়ামতের দিন ছবি নির্মাতাগণই সবচেয়ে কঠিন শাস্তির সম্মুখীন হবে। -বুখারী
* মুমিন পুরুষদের বলো, তারা যেন নিজেদের দৃষ্টিকে নিম্নমুখী রাখে। - সূরা নূর: ৩০
* যে ঘরে কুকুর অথবা প্রাণীর ছবি থাকে, সে ঘরে ফিরিশতা প্রবেশ করে না। - আল হাদীস
* কান, চোখ, অন্তর এদের সবাইকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। -বনী ইসরাইল: ৩৬
* যে ব্যক্তি টাটকা পিঁয়াজ-রসূন জাতীয় সবজি খাবে; সে যেন মসজিদের কাছে না যায়।- বুখারী ও মুসলিম
* মৃতকে কবরে এই জন্যেও শাস্তি দেওয়া হবে যে, তার জন্য বুক চাপড়ে বিলাপ করা হয়।- বুখারী ও মুসলিম
* যে বিষয়ে তোমার জ্ঞান নেই, তার পিছনে ছুটো না। - সূরা ইসরা: ৩৬
* আর মিথ্যা বলা পরিবহার করো।- সূরা হাজ্জ: ৩০
* কোন শব্দই তার মুখে উচ্চারিত হয়না, যার সংরক্ষণের জন্য একজন চির-উপস্থিত পর্যবেক্ষক মজুদ না থাকে।- ক্বাফ: ১৮
* চোগলখোর লোক জান্নাতে প্রবেশ করবে না।- বুখারী ও মুসলিম
* বিদ্রুপাত্মক ইশারা করা চোগলখুরীর মধ্যে গণ্য। - সূরা নুন: ১১
* আর, যখন তারা অনর্থক কথাবার্তা শোনে, তখন তা থেকে নিজেদের মুখ ফিরিয়ে নেয়। - সূরা কাসাস: ৫৫
* (মুমিন তো তারাই) যারা অদৃশ্যে বিশ্বাস করে, নামায কায়েম করে ও আমি যে রিযিক দিয়েছি তা থেকে ব্যয় করে। - আল বারাকাহ: ০৩
* সফলকাম মুমিন তারা, যারা বেহুদা কথাবার্তা থেকে মুখ ঘুরিয়ে নেয়।- সূরা মুমিনুন: ০৩
* তোমাদের প্রত্যেক ব্যক্তিরই দুআ কবুল হয়, যখন সে তাড়াহুড়ার আশ্রয় না নেয়। সে বলে যে, আমি আপন প্রভূর কাছে দুআ করছি, কিন্তু আমার দুআ কবুল হয়নি।- বুখারী ও মুসলিম
* বান্দাহ তার প্রভুর সবচেয়ে কাছাকাছি হয় সিজদার অবস্থায়। অতএব, এ সময়ে বেশি পরিমাণে দুআ করো।- মুসলিম
* কোন মুসলমান যখন তার ভাইয়ের জন্য আড়ালে দুআ করে তখন ফিরিশতারা বলে, তোমার ভাগ্যেও যেন এমনটাই জোটে।- মুসলিম
* আর, নিজের গুনাহের জন্য ক্ষমা চাও এবং মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদের জন্যও। - সূরা মুহাম্মদ: ১৯
* আর তোমাদের প্রভূ বলেছেন, তোমরা আমার কাছে দুআ করো, আমি তোমাদের দুআ কবুল করবো।- ফাতির: ৬০
* অধীর ব্যক্তির প্রার্থনা করে, তখন কে তার প্রার্থনা শ্রবণ করে? কে তার কষ্ট ক্লেশ দূর করে?।- সূরা নমল: ৩২
* হে ঈমানদারগণ! যদি তোমরা আল্লাহকে ভয় করার পথ অবলম্বন কর, তাহলে আল্লাহ তোমাদেরকে সত্য-মিথ্যার স্পষ্ট পার্থনাকারী দান করবেন এবং তোমাদের ত্রুটি বিচ্যুতি ক্ষমা করবেন।- আনফাল : ২৯
* যে ব্যক্তি সবৃদা ইস্তেগফার করতে থাকে, আল্লাহ তাকে প্রতিটি সংকীর্ণ কাজ অথবা কষ্টকর অবস্থা থেকে মুক্তি লাভের সুযোগ করে দেন।- আবু দাউদ
* তোমরা যদি শয়তানের পক্ষ থেকে কোন প্ররোচনা অনুভব করতে পারো, তাহলে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করো। তিনি সবকিছু শোনেন ও জানেন। - হামীম সাজদাহ : ৩৬
* আল্লাহর পথে সম্পদ ব্যয় করো এবং নিজ হাতেই নিজেদেরকে ধ্বংসের মুখে নিক্ষেপ করো না। ইহসানের পথ অবলম্বন করো, কেননা আললাহ মুহসিনদের পছন্দ করেন। - সূরা বাকারা: ১৯৫
* নি:সন্দেহে তোমার রবের পাকড়াও বড়ই কঠিন। - সূরা বুরুজ : ১২
* যে সত্তার হাতে আমার প্রাণ, তাঁর কসম! তোমরা যদি গুনাহ না করতে তাহলে আল্লাহ তোমাদের সরিয়ে দিতেন। তারপর তিনি এমন জাতিকে প্রেরণা করতেন, যারা গুনাহ করে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতো এবং তিনি তাদেরকে ক্ষমা করে দিতেন।- মুসলিম
* হে ঈমানদারগণ! তোমরা সবাই মিলে আল্লাহর কাছে তাওবা করো, সম্ভবত তোমরা কল্যাণ লাভ করবে।
* আদম (আ:) এর জন্ম থেকে কিয়ামত পর্যন্ত সময়ের মধ্যে দাজ্জালের ফিতনার চেয়ে বড় কোন ফিতনা আর ঘটবে না। - মুসলিম
* আমি রাসুলুল্লাহ (সা:) কে বলতে শুনেছি, আল্লাহর কসম, আমি দৈনিক সত্তরবারেরও বেশি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি এবং তাওবা করি। - বুখারী
* রাসূল (সা:) কখনো সুগন্ধী ফেরত দিতেন না।- বুখারী
* তোমাদের কেউ যেন অন্যের ক্রয়ের ওপর, ক্রয় না করে এবং অনুমতি ছাড়া একজনের বিয়ের প্রস্তাবের ওপর যেন অন্যজন প্রস্তাব না দেয়। - বুখারী ও মুসলিম
* ঈমানদার ব্যক্তিকে একই গর্ত থেকে দু’বার দংশন করা সম্ভব নয়। - বুখারী ও মুসলিম
* কেউ যদি তার মুসলমান ভাইয়ের দিকে কোন ধারালো অস্ত্র দিয়ে ইঙ্গিত করে, তাহলে সে যতক্ষণ পর্যন্ত তা ফেলে না দেবে, ততক্ষণ ফিরিশতারা তাকে লানত করতে থাকে। - বুখারী ও মুসলিম
* তোমরা কবরের দিকে মুখ করে নামায পড়োনা এবং কবরের ওপর বসো না।- মুসলিম
* যারা ঈমানদার নর-নারীকে বিনা অপরাধে কষ্ট দেয়, তারা একটা অতি বড় মিথ্যা দোষ ও সুস্পষ্ট গোনাহের বোঝা নিজেদের মাথায় চাপিয়ে নিয়েছে।- আহযাব: ৫৮
* তারপর সেইদিন (কিয়ামতের) তোমাদের দেয়া সকল নেয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে।- আত তাকাসুর: ০৮
* হযরত ইবনে উমর (রা:) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা:) বলেছেন, কোন ব্যক্তি যদি কিয়ামতের দৃশ্য দেখতে চায় সে যেন সরা তাকভীর, সূরা ইনফিতার, সূরা ইনশিক্কাক পাঠ করে। -মুসনাদে আহমাদ ও তিরমিযী)
* যেই দিন (কিয়ামতের) তাদের জিহ্ববা, তাদের হাত এবং তাদের পা তারা যা কিছু করেছে সে সম্পর্কে স্বাক্ষ্যদান করবে। - আন নূর: ২৪
* হযরত ইবনে আব্বাস (রা:) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা:) বলেছেন, যে লোক তৃপ্তির সাথে পেট ভরে খায়, আর তারপাশে তারই প্রতিবেশী উপোস (ভূখা) থাকে সে ঈমানদার নয়।- বায়হাকী
* হযরত আনাস (রা:) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা:) বলেছেন, ইলম সন্ধান করা প্রত্যেক মুসলিমের উপর (ফরজ) অবশ্য কর্তব্য।- ইবনে মাজাহ্
* বল, নিশ্চয়ই আমার নামাজ, আমার কোরবানী, আমার জীবন, আমার মৃত্যু, সবই বিশ্বের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। - আল আনআম: ১৬২
* আল্লাহর সন্তষ্টির জন্য তোমরা যাকাত দাও, যাকাত দানকারী প্রকৃতপক্ষে তার মাল বর্ধিত করে।- আর রুম: ৩৯
* যখন আমার বন্দারা আমার ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করে, তখন (বলে দাও) আমি তোমাদের খুব নিকটেই আছি। যখন কোন প্রার্থনাকারী আমায় আহ্বান করে, তখন তার প্রার্থনা আমি শ্রবণ করি। - সূরা বাকারা: ১৮৬
* দোআ হচ্ছে ইবাদাত।- আবু দাউদ
* আর সকাল-সন্ধ্যায় আপন প্রভূর প্রশংসার সাথে তার তাসবীহ পাঠ করতে থাকো। - সূরা মুমিন (সূরা গাফির): ৫৫
* যে ব্যক্তি আপন প্রভূর যিকির করে তার দৃষ্টান্ত হলো জীবন্ত মানুষের ন্যায়, আর যে ব্যক্তি আপন প্রভূর যিকির করে না, তারা লাশের ন্যায়।- বুখারী
* আর সূর্য উদয়ের পূর্বে ও তার অস্ত যাবার পরে আপন প্রভূর গুণাবলী বর্ণনা করতে থাকো।- সূরা ত্বহা: ১৩০
* সবচেয়ে উত্তম যিকির হলো, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ। - তিরমিযী
* হযরত বুরাইদা (রা:) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা:) বলেছেন, যারা অন্ধকার রাতে মসজিদে গমন করে কিয়ামতের দিন তাহদের পরিপূর্ণ রূরের সংবাদ দাও। - তিরমিযী শরীফ
* (মুমিন তো তারাই) যারা অদৃশ্যে বিশ্বাস করে, নামায কায়েম করে ও আমি যে রিযিক দিয়েছি তা থেকে ব্যয় করে। - আল বাকারাহ্: ০৩
* আর আল্লাহকে বেশী পরিমাণে স্মরণ করতে থাকো, যাতে করে তোমরা নাজাত লাভ করতে পারো। - সূরা জুমআ: ১০
* সেই ব্যক্তির নাক ধূলি ধুসরিত হোক, যারা কাছে আমার নাম উচ্চারিত হয়েছে, অথচ সে আমার প্রতি দরূদ প্রেরণ করেনি। -তিরমিযী
* আল্লাহ ও তার ফেরেশতাগণ নবীর প্রতি দরূদ প্রেরণ করেন, (অতএব), হে মুমিনগণ! তোমরাও নবীর প্রতি দরূদ ও সালাম প্রেরণ করো- আহযাব : ৫৬
* যে ব্যক্তি একবার আমার প্রতি দরূদ প্রেরণ করে, আল্লাহ তার বিনিময়ে তার প্রতি দশটি রহমত নাযিল করেন।- মুসলিম
*যে মর্যাদাপূর্ণ কাজ আল্লাহর প্রতি প্রশংসা ছাড়া শুরু হয় না, তা ব্যর্থ হয়ে যায়। - আবু দাউদ
* আল্লাহ সেই বান্দার প্রতি সন্তষ্ট হন, যে এক লুকমা খাবার খায়, তার ওপর আল্লাহর প্রশংসা করে; এক ঢোক পানি গলধ:করণ করে, তার ওপরও আলহামদুলিল্লাহ বলে।- মুসলিম
* আর, আল্লাহর যিকির খুবই উত্তম কাজ।- সূরা আনকাবুত
* তোমরা যদি শোকর আদায় করো, তাহলে আমি তোমাদের অনেক বেশী দান করবো।- ইবরাহীম: ০৭
* আর যে ভালো কাজই তোমরা করো না কেন, আল্লাহ সে বিষয়ে অবহিত। - বাকারা : ১২৫
* বলো, হে আমার প্রভূ! আমার আরো বেশী জ্ঞান দান করো। -সূরা ত্ব-হা: ১১৪
* যে জানে, আর যে জানে না; তারা উভয়ে কি সমান সমান হতে পারে?- সূরা জুমার: ০৯
* তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে এবং যাদের জ্ঞানদান করা হয়েছে, আল্লাহ তাদের মর্যাদা সমুন্নত রাখবেন।- সূরা মুজাদালাহ
* আল্লাহকে তার বান্দাদের মধ্যেতো সেই ভয় করে, যে জ্ঞানের অধিকারী।- ফাতির: ২৮
* আল্লাহ যে ব্যক্তির কল্যাণ সাধনের ইচ্ছে পোষণ করেন, তাকে দ্বীনি সংক্রান্ত ব্যাপারে বুঝ দান করেন।- বুখারী ও মুসলিম
* যে ব্যক্তি জ্ঞানের সন্ধানে কোন পথ অতিক্রম করে, আল্লাহ তার জন্যে জান্নাতের পথ সহজ করে দেন।- মুসলিম
* হে জাতির লোকেরা! ওজন ও মাপে পূর্ণতা বিধান করো এবং লোকদের প্রাপ্য জিনিস কম দিওনা।- হুদ: ৮৫
* যে ব্যক্তি জ্ঞানের সন্ধানে বের হলো, সে ফিরে না আসা পর্যন্ত আল্লাহর রাস্তায় থাকে। -তিরমিযী
* মুমিন জ্ঞান অর্জনে কখনো পরিতৃপ্ত হয় না এবং পরিশেষে এর সমাপ্তি ঘটে জান্নাতে।- তিরমিযী
* কোন ব্যক্তিকে দ্বীনী ইলম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে, সে যদি তা গোপন করে, তাহলে কিয়ামতের দিন তাকে আগুনের লাগাম পরানো হবে।- আবু দাউদ
* তোমরা যদি শোকর আদায় করো, তাহলে আমি তোমাদের অনেক বেশি দান করবো।- ইবরাহীম: ০৭
* বলো, সব প্রশংসাই আল্লাহর জন্য। - বনী ইসরাইল: ১১
* আর তাদের সর্বশেষ কথা এই হবে যে, সব প্রশংসাই আল্লাহ রাব্বুল আলামীনে জন্য।- সূরা ইউনুস: ১০
* যে ব্যক্তি সঠিক পথের দিকে আহ্বান জানায়, সে এ পথের অনুসারীদের সওয়াবের সমপরিমাণ সওয়াব পাবে। তাতে ঐ লোকদের সওয়াবের বিন্দুমাত্র ঘাটতি হবে না।- মুসলিম
* আর তোমাদের প্রভূ বলেছেন, তোমরা আমার কাছে দুআ করো, আমি তোমাদের দুআ কবুল করবো।- ফাতির: ৬০
* মহিমান্বিত আল্লাহ বলেন, আমার বান্দাদের মধ্যে আমার কাছে প্রিয় সেই বান্দাহ, যে শীঘ্র ইফতার করে।- তিরমিযী
* যে ব্যক্তি মিথ্যা বলা এবং সেই মোতাবেক কাজ করা থেকে বিরত থাকে না; সে তার খানাপিনা ছেড়ে দিক, এতে আল্লাহর কোন প্রয়োজন নেই।- বুখারী
* যে ব্যক্তি রমজানের রোজা রাখল এবং তারপরও শাওয়ালের ছয় রোজা রাখলো, সে যেন সারাবাছর রোজা রাখলো।- মুসলিম
* তুমি যখন রোজা রাখতে চাইবে, তখন তের, চৌদ্দ ও পনের তারিখে রোযা রাখবে।- তিরমিযী
* যে ব্যক্তি কোন রোযাদারকে ইফতার করাবে, সেও তার সমান সওয়াবের অধিকারী হবে। কিন্তু তাতে রোযাদারের সওয়াব কিছুমাত্র হ্রাস পাবে না। -তিরমিযী
* তোমরা সবাই মুশরিকদের সাথে যুদ্ধ করো, যেরূপ ওরা সবাই তোমাদের সাথে যুদ্ধ করছে। আর জেনে রাখ, আল্লাহ মুত্তাকীদের সাথে রয়েছেন।- তাওবা: ৩৬
* তোমরা অবশ্যই সেহরী খাও; কারণ সেহরীতে বরকত আছে। - বুখারী
* লোকেরা যতদিন শীঘ্র ইফতার করবে, ততদিন তারা কল্যাণের মধ্য থাকবে।- বুখারী
* দুটি চোখকে দোজখের আগুন স্পর্শ করবে না; একটি হলো সেই চোখ, যা আল্লাহর ভয়ে রোদন করে, আর দ্বিতীয় হলো সেই চোখ যা রাতভর আল্লাহর রাস্তায় প্রহরা দিচ্ছিল। - তিরমিযী
* যে ব্যক্তি সাচ্চাদিলে শাহাদাত কামনা করে, তাকে শাহাদাতের মর্যাদাই দান করা হয়; সে তার নিজের বিছানায় মৃত্যুবরণ করলেও।- মুসলিম
* যে ব্যক্তি নিজের ধনমালের কারণে নিহত হয়েছে, সে শহীদ।- বুখারী ও মুসলিম
* ফিতনার সময় বন্দেগী করার সওয়াব, আমার দিকে হিজরত করার সমতুল্য।- মুসলিম
* আল্লাহর পথে সকাল ও সন্ধ্যায় অতিবাহিত করার দুনিয়া ও তার মধ্যকার সকল বস্তুর চেয়ে উত্তম।- বুখারী ও মুসলিম
* রাতের (নফল) নামায হলো দুই দুই রাকায়াতের; তোমরা যখন সকাল হবার ভয় করবে, তখন এক রাকায়াত বিতর পড়বে।- বুখারী ও মুসলিম
* আর নামায আদায় করো এবং যাকাত প্রদান করো।- বাকারা: ৪৩
* যে ব্যক্তি ঈমান ও সওয়াবের আকাঙ্খায় শবে কদরের রাতে ইবাদাত করে, তার পূর্বের সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়।- বুখারী ও মুসলিম
* তাদের পিঠ বিছানা থেকে আলাদা থাকে আর তারা শেষ পর্যন্ত আপন পরোয়ারদিগারকে ভীতি ও প্রত্যাশার সাথে ডাকে।- সাজদা: ১৬
* আর রাতের কোন কোন অংশে তোমরা জাগ্রত হও এবং তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ো। এই রাত্রি জাগরণ তোমাদের জন্য কল্যাণের উৎস।- ইসরা: ৭৯
* যে ব্যক্তি জুমুআর দিন অযু করলো, সে ভালো এবং উত্তম কাজ করলো। আর যে ব্যক্তি গোসল করলো সে সর্বোত্তম কাজ করলো।- আবু দাউদ
* যে ব্যক্তি ঈমানের তাগিদে এবং সওয়াব লাভের আশায় রমজান মাসে রোজা রাখে, তার পূর্বের গুণাহ মাফ হয়ে যায়।- বুখারী
* অত:পুর যখন নামাজ শেষ হয়ে যায়, তখন তোমরা নিজ নিজ পথে ছড়িয়ে যাও আল্লাহর অনুগ্রহ সন্ধান করো।- জুমআ: ১০
* জুমআর দিন প্রত্যে বালেগ লোকের জন্য গোসল করা জরুরী।- মুসলিম
* তোমাদের রাতের শেষ নামাযকে বিতরের নামাযে পরিণত করো।- বুখারী
* হে লোকেরা! তোমরা আপন ঘর সমূহে নামায পড়ো। এ কারণে যে, ফরজ নামায ছাড়া লোকদের আপন ঘরে নামায পড়া উত্তম।
* সমস্ত নামায, বিশেষত; মধ্যবর্তী নামায, পূর্ণ হেফাজতের সাথে আদায় করো।- বাকারা: ২৩৮
* আর যদি তারা তওবা করে, নামায আদায় করে ও যাকাত আদায় করে, তাহলে তোমরা তাদের পথ ছেড়ে দাও।- তাওবা: ০৫
* আর যখন আল্লাহর সাথে অঙ্গীকার করো, তা অবশ্যই পূর্ণ করো।- নাহল: ৯১
* হে ঈমানদারগণ! তোমরা এমন কথা কেন বলো, যা তোমরা কার্যত পালন করো না।- সূরা সফ: ২-৩
* জামায়াতের সাথে নামায পড়া, একাকী নামায পড়ার চেয়ে সাতাশ গুণ বেশি ফযীলতময়।- বুখারী ও মুসলিম
* আল্লাহর বান্দাহ হালো তারা, যারা জমিনের ওপর আস্তে পা ফেলে, আর যখন জাহিল লোকেরা তাদের সঙ্গে কথাবর্তা বলে, তখন তাদেরকে সালাম বলে বিদায় করে দেয়।- ফুরকান: ৬৩
* যে সব লোক অন্ধকার রাতে মসজিদের দিকে গম করে, কিয়ামতের দিন তাদেরকে পূর্ণাঙ্গ আলোয় সমুজ্জল হওয়ার সুসংবাদ দান করো।- আবু দাউদ
* যে ব্যক্তি আল্লাহর নিদর্শনগুলোর প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে, তা তার অন্তর্নিহিত তাকওয়ারই নিদর্শনের অন্তূর্ভক্ত। - সূরা হাজ্জ্ব: ৩২
* যে ব্যক্তি সকাল ও সন্ধ্যায় মসজিদের দিকে গমন করে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে মেহমানদারীর ব্যবস্থা করেন। যখনি সকাল-সন্ধা সে গমন করে, তখনই ঘটে।- বুখারী ও মুসলিম
* যে ব্যক্তি আসর এর নামাজ ছেড়ে দিল, তার সমস্ত আমলই বাতিল হয়ে গেল।- বুখারী
* অবশ্য নামায অশ্লীল ও অসৎ কাজ থেকে বিরত রাখে।- আনকাবুত: ৪৫
* যখন তোমরা আযান শোনো তখন সেই শব্দাবলীই উচ্চারণ করো, আযান প্রদানকারী যেগুলো উচ্চারণ করে থাকে।- বুখারী ও মুসলিম
* পবিত্রতা ঈমানের অর্ধাংশ।- মুসলিম
* আর (হে নবী) কাজে কর্মে তাদের সাথে পরামর্শ করো।- আলে ইমরান: ১৫৯
* যে ব্যক্তি উত্তমরূপে অযু করে তার দেহ থেকে তার গুণাহসমূহ ঝড়ে পরে যায়। এমনকি তার নখের নীচ থেকেও তা বের হয়ে যায়।- মুসলিম
* আর তারা (মুমিনরা) নিজেদের কাজ পারস্পরিক পরামর্শক্রমে সম্পাদন করে।- শুরা: ৩৮
* যে ব্যক্তি সুন্দর আওয়াজে কুরআন তিলাওয়াত করে না, সে আমাদের অন্তুর্ভক্ত নয়।- আবু দাউদ
বয়স্ক ব্যক্তিরা নিজেরাই ইতিবাচক মনোভাব গঠন করতে পারেন। এ দায় নিজেদেরই নিতে হবে। অনেক সময় ব্যর্থতার জন্য আমরা অপরকে বা সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ঘটনাকে দায়ী করি। কিন্তু এরূপ না করে একটি বিশ্লেষণধর্মী ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরী করা দরকার। প্রত্যেকদিন সকালে আমাদের মনোভাবটি তৈরি করে নেওয়া সম্ভব। বয়স্ক ব্যক্তি হিসাবে আমাদের কাজের ও ব্যবহারের দায়িত্ব আমাদেরও নেওয়া উচিত।
১ম পর্বে পড়েন নি?? পড়ুন একটি সুসম্পূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি - ১ম পর্ব
২য় পর্বে পড়েন নি?? পড়ুন একটি সুসম্পূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি - ২য় পর্ব
নেতিবাচক মনোভাবের ব্যক্তিরা তাদের ব্যর্থতার জন্য অন্যকে দোষেন, তাদের মাতাপিতা, স্ত্রী, শিক্ষক, দেশের সরকার, অর্থনীতিকেও দোষারোপ করেন। মনকে অতীতের বন্ধন থেকে মুক্তি দিতে হবে। পুরোনো ধুলো ঝেড়ে ফেলে জীবনের মূলধারায় প্রত্যাবর্তন দরকার। সব স্বপ্নকে সংহত করে দৃঢ় পদক্ষেপে এগিয়ে যেতে হবে। যেগুলি সৎ, সত্য এবং মহৎ, সেই সমস্ত ইতিবাচক বিষয়গুলি সম্পর্কে চিন্তা করতে করতেই মনের ইতিবাচক দিকটি সমৃদ্ধ হবে। যদি আমরা এই ধরনের মানসিকতা গঠন করতে চাই এবং তা স্থায়ী করতে চাই তবে সচেতনভাবে নিম্নলিখিত পদ্ধতিগুলি অনুশীলন করা দরকার:
প্রথম পদ্ধতি : লক্ষ্যের কেন্দ্রবিন্দু পরিবর্তন করে ইতিবাচক গুণের খোঁজ করা (Change focus, look for the positive) জীবনের সমস্ত ইতিবাচক বিষয়ের প্রতিই নজর দেওয়া দরকার। কোনও ব্যক্তির জীবনে কিংবা কোনও বিশেষ অবস্থায় যে উপাদান ও গুণগুলি কল্যানকর সেগুলির প্রতিই নজর দেওয়া উচিত। নেতিবাচক মানসিকতা কেবলমাত্র ত্রুটিগুলি দেখতেই অভ্যস্ত হয়ে যায়, ফলে দোষগুলিই দেখা হয়, কল্যানকর দিকটি নজরে আসে না।
দোষ দেখাই যাদের স্বাভাব তারা স্বর্গেরও ক্রটি বের করতে পারেন। বেশিরভাগ মানুষই যা দেখতে ইচ্ছা করেন তাই বড় করে দেখেন। যদি তারা মানুষের মধ্যে বন্ধুত্ব, আনন্দ এবং অন্যান্য ইতিবাচক গুণাবলীর খোঁজ করেন তবে তাই পাবেন; আর যদি তাদের মধ্যে বিসম্বাদ বা ঐদাসীন্য দেখতে চান তবে তাও পাবেন। মানুষের মধ্যে ভালোমন্দ দুই০ই আছে। তাই স্মরণ রাখা দরকার যে ইতিবাচক গুণগুলি খোঁজ করা ব প্রাধান্য দেওয়ার অর্থ এই নয় যে ত্রুটিগুলিকে অগ্রাহ্য করা।
সোনার খোঁজে (Looking for the gold) এ্যান্ড্রু কার্নেগী নামে একজন স্কট বাল্যবয়সে আমেরিকায় এসে নানা ধরনের খুচরো কাজ করতে শুরু করেন। তিনি জীবন শেষ করেন আমেরিকার একজন বৃহত্তম ইস্পাত প্রস্তুতকারী হিসেবে। একসময়ে ৪৩জন বিপুল ঐশ্বর্য্য হিসেবে বিবেচিত হোত, আজও তা কিছু কম ঐশ্বর্য্য নয়। জনৈক ব্যক্তি একদিন কার্নেগীকে জিজ্ঞেস করলে তিনি কিবাবে মানুষের সঙ্গে ব্যবহার করেন। এ্যান্ড্রু কার্নেগী জবাব দিলেন, “মানুষ নিয়ে কারবার করা যেন সোনার জন্য মাটি খোঁড়ার মত। এক আউন্স সোনার জন্য টনের পর টন মাটি কাটতে ও সরাতে হয়। কিন্তু সোনাই খোজা হয়, মাটি নয়।”
আসল কথা, আমাদের নজর কোনটার উপর। নজরটা সোনার উপর থাকুক মাটির উপর নয়। মানুষের মধ্যেও যদি দোষত্রুটি খোঁজ হয়, তবে মাটির মতো, তা অনেক পাওয়া যাবে। প্রশ্ন হচ্ছে আপনি কী খুঁজছেন? এ্যান্ড্র কার্নেগীর জবাবের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ কথা আছে। সব অবস্থাতেই প্রত্যেক মানুষের মধ্যে কিছু ইতিবাচক দিক আছে। অনেক সময় হয়ত গভীর অনুসন্ধান করে ইতিবাচক গুণাবলীর সন্ধান করতে হয়; কারণ তা সহজে নজের আসে না। তাছাড়া, আমরা অন্য মানুষের ত্রুটি দেখতে এত অভ্যস্ত যে ভালো দিকটি সাধারণ আমাদের নজরে আসে না। সব মানুষেরই কিছু ইতিবাচক দিক আছে, এই কথার দৃষ্টান্ত হিসাবে একজন বলেছিলেন যে একটা বন্ধ হয়ে যাওয়া ঘড়িও দিনে দু’বার সঠিক সময় দেখিয়ে থাকে। স্মরণ রাখা প্রয়োজন, যখন আপনি সোনার খোঁজ করেন তখন এক আউন্স সোনার জন্য আপনাকে টন টন মাটি সরাতে হয়; কিন্তু আপনি খোঁজেন সোনাই, মাটি নয়।
“নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির মানুষ সব সময়েই সমালোচনা করবে”
কিছু লোক আছেন যারা পক্ষ-বিপক্ষ বিচার না করে সব সময়েই সমালোচনা করেন। সমালোচনাই তাদের জীবিকা। সমালোচনা তাদের জীবন। তারা প্রায় বিজয়ীর লক্ষ্য ও একাগ্রতা নিয়ে সমালোচনা করেন। প্রতিটি মানুষের মধ্যে প্রত্যেক অবস্থায় তারা কিছু ত্রুটি খুঁজে বার করবেনই, এবং বিশ্বসুদ্ধ সবাইকে ত্রুটির জন্য দোষারোপ করবেন। এই ধরনের মানুষকে বলা যায় ‘শক্তিশোষক’- তারা সমস্ত শক্তি শোষণ করে নেন। এরা কাফেটোরিয়াতে গিয়ে ক্লান্তি অপসারণের নামে বিশ কাপ চা-কফি গলাধঃকরণ করেন, মনের সুখে ধূমপান করেন এবং অজস্র নিন্দামন্দ করেন। তারা শুধু নিজেদেরই মধ্যেই নয়; আশেপাশে যারা থাকেন সবার মধ্যেই একটা চাপা উত্তেজনার সৃষ্টি করেন। প্রকৃতপক্ষে, ছোঁয়াচে রোগের ন্যায় তারা একটি নঞর্থক বাণী বহন করেন এবং এমন একটি পরিবেশের সৃষ্টি করেন যেখানে কেবল নেতিবাচক ফলই পাওয়া যায়।
রবার্ট ফুলটন বাষ্পীয় পোত আবিষ্কার করেছিলেন। হাডসন নদীতে যখন তিনি তার নুতন আবিষ্কার প্রদর্শনের আয়োজন করছিলেন তখন কিছু নিরাশবাদী ও সংশয়ী ব্যক্তি জড়ো হয়ে বলাবলি করছিল যে জাহাজ কখনও চলবে না। দেখা গেল জাহাজ চলছে এবং সেটি নদী দিয়ে এগিয়ে গেল। তখন যারা জাহাজ চলবে না বলে মন্তব্য করেছিল তারা চিৎকার করে বলতে লাগল, জাহাজ কখনও থামবে না। সবকিছুর নেতিবাচক দিক দেখার কী আশর্য মানসিকতা!
চলবে পরবর্তী পর্বগুলোতে বাকি পদ্ধতিগুলো প্রকাশ করা হবে।
চলবে পরবর্তী পর্বগুলোতে বাকি পদ্ধতিগুলো প্রকাশ করা হবে।
হঠাৎ করে ঢাকা পরিণত হয়েছে গুজবের শহরে। শুধু ঢাকা নয়, পুরো দেশই গুজবের কারখানায় পরিণত হয়েছে। গুজব বন্ধের উপায় হিসেবে সোশ্যাল মিডিয়ার চাপে থাকা মূলধারার গণমাধ্যমকে আরও স্বাধীনতা দেওয়ার বদলে সরকার নিয়ন্ত্রণের পথ বেছে নিয়েছে। এমনকি, সরকারের কট্টর সমর্থক টিভি চ্যানেলও বাদ যায়নি। জনমনে ‘আতঙ্ক এবং জনবিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কা’ তৈরির অভিযোগ করা হয়েছে দুটি চ্যানেলের বিরুদ্ধে। সরাসরি সম্প্রচারে উত্তেজনা ছড়ানো সম্প্রচার নীতিমালার পরিপন্থী বলে হুঁশিয়ার করা হয়েছে অন্যদের।
মূলধারার গণমাধ্যমে খবর না পেলে বিকল্প পথে গুজব যে আরও ফুলে ফেঁপে উঠবে, সেটাই তো স্বাভাবিক। সরকার যখন কী কী ঘটেনি বলে ঘোষণা দেয়, তখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে, কী কী ঘটেছে। গুজবের কারণে সরকার এখন ২৪ ঘণ্টার জন্য ইন্টারনেটে, বিশেষত মোবাইল নেটওয়ার্কে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে। সরকারের বহুল বিজ্ঞাপিত ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’কে অ্যানালগ যুগে ফিরিয়ে নেওয়ার চেষ্টায় বিস্মিত মানুষের মনে যদি প্রশ্ন জাগে, সরকার কিছু গোপন করতে চায় কি না, তাহলে কি সেটা অন্যায় হবে? সাংবাদিকদের ওপর হামলা তো তথ্যপ্রবাহ বন্ধের চেষ্টা ছাড়া কিছু নয়।
সপ্তাহখানেক ধরে ‘রাষ্ট্রের সংস্কার’-এর চেষ্টা চালাচ্ছে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। মন্ত্রী থেকে শুরু করে পুলিশ-র্যাব এবং শাসনকাজের সঙ্গে যুক্ত সবাই বলে চলেছেন যে বাচ্চারা তাঁদেরকে ভুলগুলো ধরিয়ে দিয়েছে এবং সরকার তাদের দাবিমতো ব্যবস্থা নেবে। সরকারের কথায় শিক্ষার্থীরা কেন আস্থা রাখতে পারছে না, সেদিকটিতে নজর না দিয়ে এখন এই আন্দোলনে রাজনীতি খোঁজা শুরু হয়েছে। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পাল্টা হিসেবে পরিবহনের মালিকেরা আন্তজেলা গাড়ি চলাচল বন্ধ করে দিলেও তাদের বিরুদ্ধে সরকারের কোনো পদক্ষেপ নেই। কিন্তু গোয়েন্দারা এখন ব্যস্ত বিরোধী দলের রাজনীতিক ও সমালোচকদের টেলিফোনে আড়িপাতায়। কর্মীদের মাঠে নামার নির্দেশ দেওয়ার ওই টেলিফোনকে ষড়যন্ত্র হিসেবেও তুলে ধরা হয়েছে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলছেন, আন্দোলনে বিএনপি-জামায়াত ভর করেছে। আন্দোলনকে তারা সহিংসতার দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে বলে তাঁদের অভিযোগ।
এ ধরনের জনমুখী আন্দোলনে কোনো রাজনৈতিক দল যদি সমর্থন না দিতে পারে, তাহলে সেই দলের আর রাজনীতি করার প্রয়োজন কী? জনগোষ্ঠীর যেকোনো অংশের যৌক্তিক আন্দোলনের পাশে দাঁড়াতে না পারলে তাদের বরং অবসরে যাওয়া উচিত। আওয়ামী লীগ বিরোধী দলে থাকার সময়ে এ রকম বিভিন্ন শ্রেণি-গোষ্ঠীর আন্দোলনে কী ভূমিকা নিয়েছিল, তা সবাই ভুলে গেছে বলে কি তাঁদের ধারণা? আর, ওই সব আন্দোলন যে তাঁদের ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য কাজে লাগেনি, তা-ও নয়। বরং বলা চলে, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে সামরিক শাসক জিয়ার আমলে যে অরাজনৈতিক নাগরিক আন্দোলন গড়ে উঠেছিল, সেটিকে গ্রহণ করে আওয়ামী লীগ লাভবান হয়েছে। দিনাজপুরে পুলিশের দ্বারা ইয়াসমিন ধর্ষণ ও হত্যা, শামসুন্নাহার হলে পুলিশি অভিযান, এনজিও জোটের শাপলা চত্বরের সমাবেশকেন্দ্রিক ট্রাম্প কার্ডের ঘোষণা কিংবা ব্রিটিশ কোম্পানিকে ফুলবাড়ী কয়লাখনির লাইসেন্স দেওয়ার বিরুদ্ধে আন্দোলন—এগুলোর কোনটিতে আওয়ামী লীগ যোগ দেয়নি? যদি সেকালে মোবাইল ও ইন্টারনেট নেটওয়ার্ককে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের বিষয়টি তখনকার শাসকদের জানা থাকত, তাহলে আমরা যে আরও কত নেতার কত ধরনের টেলিফোনের রেকর্ডিং শুনতাম, কে জানে।
তবে, হ্যাঁ, যদি কোনো ধরনের নাশকতা সৃষ্টির পরিকল্পনা কেউ করে, তবে অবশ্যই সেই ষড়যন্ত্রের বিচার হওয়া উচিত। ফাঁস হওয়া কোনো টেলিফোনে এ রকম কোনো ষড়যন্ত্রের কিছু কি পাওয়া গেছে? সহিংসতার ঘটনা যেগুলো ঘটেছে সেগুলোতে বরং ক্ষমতাসীন দলের সমর্থকদের অংশগ্রহণের আলামত মিলছে। হঠাৎ করে হেলমেটধারী যুবকেরা হাজির হচ্ছেন এবং শিক্ষার্থীদের মারধর করছেন। এগুলো ঘটছে পুলিশের উপস্থিতিতেই। কোথাও কোথাও শুরু করছেন হেলমেটধারীরা আর শেষ করছে পুলিশ। এসব হামলাকারীকে বিএনপি-জামায়াত হিসেবে অভিহিত করা সরকারের বিশ্বাসযোগ্যতাকে যে আরও প্রশ্নবিদ্ধ করছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। শিক্ষার্থীরা কর্মসূচি শেষ করে ঘরে ফিরে যাওয়ার পর রাস্তায় রাস্তায় হঠাৎ করে হাজির হওয়া তরুণদের গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনাগুলো স্পষ্টতই নাশকতা। এসব নাশকতাকে আন্দোলন দমনের যৌক্তিকতায় ব্যবহারের চেষ্টা হবে, জানার পর নিশ্চয়ই আন্দোলনকারীরা এ ধরনের হাঙ্গামায় জড়াবে না?
সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতে কয়েক দিন ধরে এমন সব বক্তব্যযুক্ত পোস্টার ছড়ানো হয়েছে যেগুলোর উদ্দেশ্যই হচ্ছে আন্দোলনকারীদের হেয় করা, তারা যাতে আর মানুষের সহানুভূতি না পায় সেই চেষ্টা করা। শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফেরত যাওয়ার কথা বোঝানোর দায়িত্ব ছাত্রলীগকে দেওয়া যে ভিন্ন বার্তা দেয়, সেটা তো আর কারও বুঝতে কষ্ট হওয়ার কথা নয়। কোটা সংস্কারের আন্দোলন এবং ডাকসু নির্বাচনের আন্দোলনে ছাত্রলীগের ঠ্যাঙ্গাড়ে ভূমিকার কথা সবাই এত দ্রুত ভুলে যাবে কীভাবে?
শিক্ষার্থীদের ঘরে ফেরানোর সহজ পথ ছিল পরিবহন খাতে সব নষ্টের মূলে যাঁরা, তাঁদের মন্ত্রিসভা থেকে বিদায় দেওয়া। মন্ত্রিসভায় থাকার জন্য একটি দৈনিক পত্রিকার মালিক সম্পাদক যদি তাঁর পদ ছাড়তে পারেন, তাহলে শ্রমিক ফেডারেশন এবং মালিক সমিতির সভাপতির পদধারীরা কীভাবে মন্ত্রিসভায় থাকেন? সড়কের নিরাপত্তার জন্য গত জুনে প্রধানমন্ত্রী যেসব নির্দেশনা দিয়েছিলেন, সেগুলো বাস্তবায়নে গত ছয় সপ্তাহে একটি পদক্ষেপও নিতে না পারার জন্য যাঁরা দায়ী, তাঁদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে তো আইন প্রণয়নের প্রয়োজন নেই। ফিটনেসবিহীন এবং মেয়াদোত্তীর্ণ গাড়িগুলো বন্ধের অভিযান শুরু করতেও কি দীর্ঘ প্রস্তুতির প্রয়োজন হয়? বেআইনিভাবে কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়া কেউ যানবাহন বন্ধ রাখলে তার রুট পারমিট বাতিলের মতো ব্যবস্থা নেওয়া তো বিদ্যমান আইনে কঠিন কিছু নয়। দুজন সহপাঠীর হত্যার বিচার সময়সাপেক্ষ এবং আইন তৈরির প্রক্রিয়াও রাতারাতি যে শেষ হবে না, সেটা শিক্ষার্থীরা যে বোঝে না, তা নয়। কিন্তু যেসব ব্যবস্থা নিলে আস্থার ঘাটতি এখনই দূর হতে পারে, সেগুলোর ক্ষেত্রে সরকার যে দলীয় সংকীর্ণতায় ভুগছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। অথচ, বাস্তবতা হচ্ছে, মন্ত্রী, সাংসদ, পদস্থ আমলা, পুলিশসহ বিভিন্ন স্তরের ক্ষমতাধর লোকজনের গাড়ির কাগজপত্রে অনিয়ম দেখার পর এসব শিক্ষার্থী সরকারের মুখের কথায় আস্থা রাখবে, এমন চিন্তা অযৌক্তিক। তা ছাড়া, সাম্প্রতিক কোটা সংস্কার আন্দোলনে তাদের বড়ভাইদের পরিণতির কথা তারা ভুলবে কীভাবে?
আমরা ন্যায়বিচার চাই (উই ওয়ান্ট জাস্টিস) স্লোগানের বিস্তৃতি কিন্তু অনেক ব্যাপক। সম্ভবত সে কারণেই তাদের পোস্টারে লেখা হয়েছে রাষ্ট্রযন্ত্রের সংস্কার চলছে, সাময়িক অসুবিধার জন্য দুঃখিত। সময়ক্ষেপণের সঙ্গে সঙ্গে ঘটে যাওয়া অন্যায়গুলোর কথা মনে পড়তে থাকে, ক্ষোভেরও বিস্তৃতি ঘটে। দেশের অন্যতম প্রাচীন এই দলটির এসব কথা না জানার কথা নয়। ক্ষমতার চৌহদ্দির ভেতরে বসে এসব কথা ভুলে যাওয়া সহজ কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক।
কামাল আহমেদ, সাংবাদিক।
কেন খাবেন ডাবের পানি? আসলে তা খেলেই বুঝবেন। বিশেষ করে এই গরমে ডাবের পানি মহৌষধ। খাবেন টলটলে পানি। অথচ শরীরে গিয়েই সে আপনার নানান উপকারে লেগে যাবে।
ডিহাইড্রেশন কমায়: গরমে শরীর খুব তাড়াতাড়ি জল টেনে নেয়। ফলে দেখা দেয় ডিহাইড্রেশনের মতো সমস্যা। ডাবের জলে রয়েছে প্রচুর পুষ্টিগুণ যা শরীরে জলের ঘাটতি পূরণ করে।
রক্তচাপ কমায়: আপনার কি রক্তচাপ খুব বেশি? তাহলে নিয়মিত ডাবের জল খান। এতে রয়েছে উচ্চমাত্রায় ভিটামিন সি, ম্যাগনেসিয়াম এবং পটাসিয়াম যা রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে।
হজমশক্তি বাড়ায়: ডাবের জলে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার যা আমাদের পাচনতন্ত্রকে সুস্থ রাখে। হজমশক্তি অনেক বাড়িয়ে তোলে। নিয়মিত ডাবের জল খেলে অ্যাসিডিটির হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।
ডায়বিটিস: ডায়বিটিস রোগীদের জন্য খুবই উপকারী ডাবের জল। নিয়মিত ডাবের জল খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে।
কোষ্টকাঠিন্য দূর: ডাবের জলে প্রচুর পরিমাণ ফাইবার থাকায় কোষ্ঠকাঠিন্যের হাত থেকে রেহাই পাওয়া যায়। যাঁরা নিয়মিত শরীরচর্চা করেন তাঁদের জন্যও ডাবের জল খুব উপকারী।
মূত্রাশয়ের রোগ নিরাময়ে: ডাবের জলে রয়েছে ডাই-ইউরেটিক উপাদান যা ইউরিনারি ট্র্যাক ইনফেকশনের জন্য দায়ী ব্যাকটেরিয়াকে নষ্ট করে। শরীরে রোগ প্রতিরোধ শক্তি গড়ে তোলে।
ত্বকের যত্ন: অ্যাকনের সমস্যা থাকলে ডাবের জলে তুলো ভিজিয়ে তা ত্বকের উপর লাগান। তৈলাক্ত বা শুষ্ক যে কোনও ত্বকেই ব্যবহার করতে পারেন এই জল। ডাবের জল খেলে মুখের ত্বক আর্দ্র হয়। অনেক তরতাজা দেখায়।
ছবি ও তথ্য – ইন্টারনেট
ইতিবাচক মনোভাবের মানুষ কিভাবে চেনা যাবে? (How do you recognize people with a positive attitude?)
একজন মানুষ অসুস্থ না হলেই যেমন তাকে সুস্বাস্থ্যের অধিকারী বলা যাবে না তেমনি নেতিবাচক মনোভাব না থাকলেও কাউকে ইতিবাচক মনোভাবসম্পন্ন বলে চিহ্নিত করা যাবে না। ইতিবাচক মনোভাবসম্পন্ন মানুষের কিছু বৈশিষ্ট্য সহজে নজরে পড়ে। তারা দয়ালু, আত্মবিশ্বাসী, ধৈর্যশীল এবং নিরহঙ্কার। তারা নিজেদের সম্পর্কে এবং অন্যের সম্পর্কেও উচ্চ আশা পোষণ করেন এবং সব কাজেইিইতিবাচক ফল প্রত্যাশা করেন। যাদের মনোভাব ইতিবাচক তারা বারমাসি ফলের মতো, সব সময়েই সুস্বাদু ও তাই তারা সবসময় স্বাগত।
১ম পর্বে পড়েন নি?? পড়ুন একটি সুসম্পূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি - ১ম পর্ব
ইতিবাচক মনোভাবের সুবিধ (The benefits of a positive attitude)
এই মনোভাবের সুফল অনেক এবং সহজে তা নজরেও পড়ে। অবশ্য যা সহজে নজরে পড়ে তা সহজে নজর এড়িয়েও যেতে পারে। যাইহোক কয়েকটি সুবিধা উল্লেখ করা যায়।
• উৎপাদনশীলতা বাড়ায়
• সঙ্ঘবদ্ধভাবে কাজের পরিবেশ সৃষ্টি করে
• সমস্যার সমাধানে সাহায্য করে
• কাজের উৎকর্ষ বাড়ায়
• সৌহার্য্উপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি করে
• আনুগত্যের মনোভাব তৈরি করে
• মুনাফা বাড়ায়
• কর্মচারী, মালিক ও ক্রেতাদের মধ্যে সম্পর্কের উন্নতি করে
• মানসিক চাপ কমায়
• সমাজের সহায়ক সদস্য হতে সাহায্য করে
• একজন ভালো ব্যক্তিত্বসম্পন্ন মানুষ হিসেবে সমাজে পরিচিত হতে সাহায্য করে।
নেতিবাচক মনোভাবের ফলাফল (The consequences of a negative attitude)
জীবনে অনেক বাধাবিপত্তি অতিক্রম করে এগিয়ে যেতে হয়, এবং অনেক সময় আমাদের নেতিবাচক মনোভাবই সবচেয়ে বড় বাধার সৃষ্টি করে।এই মনোভাবের ফলে বন্ধুত্ব ও চাকরি রক্ষা করা, কিংবা সামাজিক ও দাম্পত্য সম্পর্ক রক্ষা করাও কঠিন হয়ে ওঠে। এরূপ মনোভাবের ফলে,
• তিক্ততার সৃষ্টি হয়
• ক্ষোভের ও অসহিষ্ণুতার সৃষ্টি হয়
• জীবন উদ্দেশ্যহীন হয়ে পড়ে
• অসুস্থতার শিকার হতে হয়
• নিজের ও ঘনিষ্টদের উপর মানসিক চাপ বাড়ে, পরিবারের মধ্যে এবং কর্মস্থলে এমন একটি নেতিবাচক আবহাওয়া সৃষ্টি করে যা কারোর পক্ষে মঙ্গলদায়ক নয়। এরূপ মনোভাব ধীরে ধীরে শুধু ঘনিষ্টদের সংক্রামিত করে না, পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যেও সঞ্চায়িত হয়।
ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি গঠনের পদ্ধতি (Step to building a positive attitude)
মানুষের স্বভাব পরিবর্তনের পরিপন্থী। পরিবর্তন অস্বস্তিকর। বাল্যকালেই সারাজীবনের জন্য মানস-গঠন সম্পন্ন হয়ে যায়। সবচেয়ে ভালো হয় যদি সেই বছরগুলিতে ইতিবাচক মানসিকতা গড়ে ওঠে। কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে ঘটনাচক্রে যদি বাল্যকালে নেতিবাচক মনোভাব গড়ে ওঠে তবে তা সারাজীবন বহন করে চলতে হবে। এরূপ মনোভাবের পরিবর্তন করা যায় কিন্তু তা খুব সহজসাধ্য নয়। কিভাবে ইতিবাচক মনোভাব গড়ে তুলতে হয়?
• যে আদর্শগুলি ইতিবাচক মনোভাব গড়ে তুলতে সাহায্য করে সে সম্পর্কে অবহিত হওয়া।
• ইতিবাচক মনোভাব অর্জন করার আকাঙ্খা।
• আদর্শগুলি সার্থকভাবে অনুসরণের জন্য শৃঙ্খলাবোধ ও নিষ্ঠার অনুশীলনের প্রয়োজন।
পড়ুন ৩য় পর্ব একটি সুসম্পূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি - ৩য় পর্ব
কাপড়ে কিছু কিছু দাগ লাগলে সহজেই ধুয়ে তুলে ফেলা যায়। কিন্তু কিছু দাগ আছে যেগুলো সহজেই উঠে না তেমনি হচ্ছে রক্তের দাগ। অনেক কেমিক্যাল দিয়ে কিংবা লন্ড্রির দোকানে দিয়েও পুরোপুরি রক্তের দাম উঠানো সম্ভব হয় না। তবে রান্না ঘরের কিছু উপাদান রয়েছে যা বাড়িতে বসে সহজেই রক্তের দাগ উঠানো সম্ভব হবে।
ভিনেগার
কাপড়ে রক্তের দাগ বসে যাবার আগেই তা ধুয়ে ফেলা ভালো। এক্ষেত্রে একটি পাত্রে কাপড়টি রেখে তার ওপরে সাদা ভিনেগার ঢেলে দিন। পানির সঙ্গে মেশাবেন না। এরপর ৫-১০ মিনিট রেখে দিন। এরপর কাপড়টা ধুয়ে ফেলুন, প্রয়োজন মনে হলে আবারও ভিনেগারে ভিজিয়ে রাখুন একদফা। ভিনেগারে থাকা এসিড কাপড় থেকে দাগ তুলে ফেলতে সাহায্য করে।
কোকা কোলা
অনেক সময় বাড়ির বাইরে কোনো দুর্ঘটনায় হাত-পা ছড়ে গেলো, কাপড়ে পড়ল রক্তের দাগ। তখন ভিনেগার পাবেন কোথায়? কোনো একটি দোকান থেকে কোকাকোলা বা পেপসি কিনে তা দিয়ে ধুয়ে ফেলুন দাগ লাগা কাপড়। কিছুক্ষণ ভিজিয়ে রাখতে পারলে আরও ভালো। এরপর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
কর্নফ্লাওয়ার
কর্নফ্লাওয়ার বা কর্ন স্টার্চের সঙ্গে অল্প করে ঠাণ্ডা পানি মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। কাপড়ের দাগ লাগা অংশে ঘষে ঘষে পেস্ট লাগিয়ে নিন। এরপর কাপড়টাকে রোদে শুকিয়ে নিন। পেস্ট শুকিয়ে গেলে ব্রাশ দিয়ে ঝেড়ে নিন। দেখবেন কর্ন ফ্লাওয়ারের গুঁড়োর সাথে কাপড়ের দাগটাও চলে গেছে।
ট্যালকম পাউডার
গরমকালে সবার বাড়িতে ট্যালকম পাউডারের একটা কৌটা থাকে। কর্নফ্লাওয়ারের মতই কাজ করে ট্যালকম পাউডার। একে পানির সঙ্গে মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন এবং কাপড়ে লাগিয়ে নিন। শুকিয়ে যাবার পর পাউডার ঝেড়ে ফেলুন।
লবণপানি
ঠাণ্ডা পানির সঙ্গে লবণ মিশিয়ে তাতে ভিজিয়ে রাখুন রক্তের দাগ লাগা কাপড়টি। ৩-৪ ঘণ্টা পর সাধারণ ডিটারজেন্ট দিয়ে ধুয়ে ফেলুন, দেখবেন উঠে যাবে।
মাছে-ভাতে বাঙালি। তাই পাতে মাছ না হলে কি চলে। তবে এখন বাজারে টাটকা মাচ তেমন একটা পাওয়া যায় না। কারণ মাছে মিছে গেছে ফরমালিন। বেশ কয়েকদিনের পুরনো মাছও টাটকা বলে চালাতে মেশানো হচ্ছে রাসায়নিক।
আসুন জেনে নেই ফরমালিনমুক্ত মাছ চিনবেন যেভাবে
কানকোর রং
মাছ কেমন, টাটকা তো? এ প্রশ্ন করলেই ব্যাপারিরা মাছের কানকো তুলে বলেন, দেখুন না একেবারে লাল। টাটকা না হয়ে যায় না। তা দেখে অনেকে বিশ্বাসও করে ফেলেন। কিন্তু যা দেখা যায়, তার সবটা সত্যি নয়। যদি কানকোর রং লালচে মেরুন হয় তবে মাছ টাটকা। আর যদি তা কালচে মেরুন নয়, তবে বুঝতে হবে মাছ বাসি, ভিতরে ভিতরে পচন ধরেছে। তবে ফরমালিনের সাহায্যে কানকোর রং একই রকম করে রাখা যায়। তাই কানকো দেখালেই লাল রংয়ের মোহে ভুলবেন না।
পাখনা ও লেজ
অনেক ব্যাপারিই শুধু মাছের শরীরের উপরই নজর দেন। সেখানেই ফরমালিন দ্রবণ দেন কিংবা বরফ দেন। কিন্তু পাখনা বা লেজের দিকে নজর দেন না। যদি দেখেন সেগুলো কোঁচকানো, কুঁকড়ে গিয়েছে তবে বুঝতে হবে মাছটা বাসি। তবে পাখনা দেখে অনেক সময় বোঝা যায় না। সেগুলো এমনিতেই কোঁকড়ানো থাকে। তাছাড়া মাছবিক্রেতারা তা কেটেও রাখেন। তবে গোটা মাছ বা বড় মাছ কেনার সময় এই লক্ষণ দেখে অবশ্যই ভাল-মন্দ বুঝতে পারবেন।
চোখ
চোখ দেখে টাটকা মাছ চেনা সব থেকে ভাল। যদি মাছ ভাল থাকে তবে চোখ পরিষ্কার থাকবে। মাছ টাটকা না হলে চোখ ঘোলাটে হয়ে উঠবে।
মাছের প্রকৃতি
মাছ হাতে নিয়ে চাপ দিয়ে দেখুন। সাধারণ তাপমাত্রায় মাছে চাপ দিলে, তা হাতে নরম ঠেকবে না। কোনও জিনিসে চাপ দিলে যেমন তার উলটো প্রতিক্রিয়া থাকে এক্ষেত্রেও তা হবে। আর যদি দেখেন পুরো জিনিসটা রাবারের মতো লাগছে, তবে বুঝবেন অবশ্যই মাছে ফরমালিন মেশানো আছে। রাসায়নিক দিয়েই সংরক্ষণ করা হয়েছে।
মাছের গন্ধ
টাটকা মাছে কিন্তু টিপিক্যাল মেছো গন্ধ থাকে না। এই গন্ধটা আসে যখন মাছে একটু পচন ধরে অর্থাৎ বাসি মাছে। অবশ্য ফরমালিন মেশানো থাকলে গন্ধে কোনও ফারাক পাওয়া যাবে না। সেক্ষেত্রে চেনার উপায়? এখানে আপনাকে সাহায্য করবে মাছি। রাসায়নিক মেশানো মাছে বিশেষ মাছি বসে না। সাধারণ মাছেই মাছি বসবে। তবে তারা অবশ্য টাটকা-বাসি তফাত করে না। কিন্তু নিশ্চিত হতে পারবেন যে, মাছি বসছে মানে সাধারণত কোনও রাসায়নিক মেশানো নেই।















