• Home
  • About
  • Contact
    • Category
    • Category
    • Category
  • Shop
  • Advertise
facebook twitter instagram pinterest bloglovin Email

জানতে হবে

জ্ঞান আহরণ, সঠিক সিদ্ধান্ত, সুন্দর জীবন

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার বাসিন্দা ইউসুফ নবী। এই তো কিছুদিন আগে তিনি বিদেশ থেকে ফিরেছেন। পদুয়ার একটি পাহাড়ের গাছতলায় বসে আছেন। এটি তার পুরনো জায়গা। এখানেই অনেক সময় কাটিয়েছেন প্রেমিকা সুলতানার সঙ্গে। পাহাড়ের কাছেই তাদের বাড়ি। যখন-তখন চলে আসতেন দুজন। সেটি রাত বা দিন-যখনই হোক না কেন। তারা মিলিত হতেন।

The terrible consequences of illegal relations, অনৈতিক সম্পর্কের ভয়ঙ্কর পরিণতি

কিন্তু বেশ কদিন ধরেই তাদের মনোমালিন্য চলছে। বিদেশ থেকে এসেই ইউসুফ ছুটে যান সুলতানার কাছে। কিন্তু সুলতানা অনেক পাল্টে গেছে। আগের মতো করে তাকে কাছে আর পেতে চায় না। এ কারণে ইউসুফের মনে খুব কষ্ট। কষ্ট মাঝেমধ্যে রাগে রূপ নেয়। তখন মুখে যা খুশি তাই বলেন সুলতানাকে। রাগ ধরে রাখতে পারেন না তিনি। আজ কী মনে করে সুলতানা ফোন দেয় ইউসুফকে। আসতে বলল সুখবিলাস পাহাড়ে তাদের সেই পুরনো জায়গায়। ফোন পেয়েই পাগলের মতো ছুটে এসেছেন ইউসুফ। অপেক্ষা করছেন তার প্রেমিকা সুলতানার জন্য। 

পথের দিকে তাকিয়ে আছেন ইউসুফ। দেরি করায় অস্থির হয়ে পড়েছেন তিনি। বিকাল গড়িয়ে সন্ধ্যা। আঁধার নামতেই চলে এলেন সুলতানা। তাকে দেখে মহাখুশি ইউসুফ। যাক, সুলতানা তাহলে আগের মতোই আছে। সুলতানাকে দেখেই জড়িয়ে ধরতে চান ইউসুফ। সুলতানা বাধা দেয়। বলে, ‘এখানে না, বাড়িতে চলো’। পরম মমতায় ইউসুফের হাত ধরে সুলতানা। হাঁটতে হাঁটতে বলে, ‘তুমি এত অবুঝ কেন? এত খারাপ কথা কেউ তার ভালোবাসার মানুষকে বলতে পারে?’ এমন আবেগ জড়ানো কথা শুনে কষ্ট পান ইউসুফ। বলেন, ‘আমাকে ক্ষমা করো। ভুল হয়ে গেছে। তুমি যখন ভালো করে কথা না বল, তখন আমার মাথা ঠিক থাকে না।’ 

সুলতানার বাড়ি কাছেই। তারা বাড়িতে পৌঁছে যায়।  ঘরে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে ইউসুফ নিজেই দরজা বন্ধ করে দেন। সুলতানা তাকে কাছে ডাকে। এগিয়ে যান ইউসুফ। কিন্তু ঘরের মধ্যেই আগে থেকে ঘাপটি মেরে থাকা ঘাতকরা ইউসুফের মাথায় আঘাত করে। মাথা ফেটে রক্ত বেরোয়। চিৎকার করতে পারেন না ইউসুফ। সুলতানাই তার মুখ চেপে ধরে। ঘরে থাকা আরও তিনজন তাকে জাপটে ধরে। মাটিতে শুইয়ে দেয়। চাপাতি দিয়ে গলায় পোচ চালাতে থাকে সুলতানা নিজেই। যতক্ষণ পর্যন্ত না শরীর থেকে মাথা আলাদা হয়েছে, ততক্ষণ পর্যন্ত তার হাত চলতে থাকে। মাথা আলাদা। ঘরে তখন রক্তের বন্যা। তাদের শরীর ভেজা রক্তে। শরীর আর মাথা নিয়ে তারা যায় সেই সুখবিলাস পাহাড়ে। দেহ এক স্থানে ফেলে রাখে। আর মাথা নিয়ে যায় পাহাড়ের আরেক স্থানে। সেখানে মাটিচাপা দিয়ে রাখে সেই মাথা। এসব করতে করতেই ভোরের আলো ফুটতে থাকে। সুলতানা তার সহযোগীদের নিয়ে লাপাত্তা। 

২০১৪ সালের ৯ মার্চের ঘটনা এটি। ওমান-ফেরত ইউসুফ নবীর লাশ পাওয়া যায় পরদিন ১০ মার্চ সুখবিলাস পাহাড়ে। সুলতানা আর ইউসুফ দুজনই বিবাহিত ছিলেন। পরকীয়ায় জড়িয়ে নৃশংসভাবে খুনের শিকার হন ইউসুফ। গ্রেফতার হন সুলতানা। ফাঁস হয় তার ভয়ঙ্কর নিষিদ্ধ প্রেমের কাহিনী। 

গ্রেফতারের পর সুলতানা পুলিশকে বলেন, স্বামীর অনুপস্থিতিতে ইউসুফ নবী বন্ধু হয়ে এসেছিল আমার। প্রথমদিকে তাকে প্রশ্রয় না দিলেও শেষটায় গড়ে ওঠে বন্ধুত্ব। ধারণা ছিল একাকিত্ব থেকে মুক্তি পাব। পেয়েও ছিলাম। কিন্তু শেষটায় নানা কারণে সেই বন্ধুত্বের সম্পর্ক অনেকটা তিক্ততায় পরিণত হয়। পরবর্তীতে জীবনকে অতিষ্ঠ করে তোলে নবী। প্রচণ্ড মানসিক চাপে রীতিমতো দিশাহারা হয়ে পড়ি। এ অবস্থা থেকে মুক্তি  পেতেই পরিকল্পিতভাবে নিজ হাতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে গলা কেটে হত্যা করি। সহযোগীদের নিয়ে তার দেহ ফেলি নির্জন পাহাড়ি এলাকায়। আর মাথা পুঁতে রাখি মাটির নিচে। খুন করে ক্ষোভ মিটিয়েছি, তবে কয়েক ঘণ্টা পর বুঝতে পারি কাজটা ঠিক হয়নি।’ আদালতে ১৬৪ ধারায় দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে প্রবাস-ফেরত যুবক ইউসুফ নবীকে (৩৫) হত্যার এভাবেই বর্ণনা দেন গৃহবধূ সুলতানা আক্তার (৩২)। 

সুলতানার স্বামী রেজাউল করিম দীর্ঘদিন ধরে ওমান প্রবাসী। চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার পদুয়ার মুখ স্কুলপাড়া গ্রামের মৃত নুর আহমদের ছেলে ইউসুফ নবী। ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে ওমান থেকে দেশে ফেরেন তিনি। ৯ মার্চ পদুয়া ইউনিয়নের সুখবিলাস পাহাড় থেকে পুলিশ তার মস্তকবিহীন লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনার পরের দিন ১০ মার্চ ভোরে ফেনীর ছাগলনাইয়ার অলিনগর এলাকা থেকে হত্যাকাণ্ডে জড়িত অভিযোগে সুলতানাসহ চারজনকে গ্রেফতার করে। তাদের নিয়ে যাওয়া হয় চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপারের দফতরে। সেখানে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে সুলতানা হত্যার কথা স্বীকার করেন। এরপর তার দেওয়া তথ্যমতে পুলিশ একই এলাকার জঙ্গল থেকে উদ্ধার করে নবীর খণ্ডিত মস্তক। 

এ ঘটনায় নিহত ইউসুফ নবীর স্ত্রী মনোয়ারা বেগম বাদী হয়ে সুলতানাসহ চারজনকে আসামি করে রাঙ্গুনিয়া থানায় মামলা করেন। গোয়েন্দারা জানান, সুলতানার স্বামী বিদেশে যাওয়ার পর থেকে একই এলাকার ইউসুফ নবীর সঙ্গে তার ‘বন্ধুত্বে’র সম্পর্ক গড়ে ওঠে। যা অনৈতিক সম্পর্কে গড়ায়। পরবর্তীতে নবীও বিদেশে যান। আর নবী বিদেশ যাওয়ার পর থেকে একই এলাকার আরেক যুবক সুলতান আহমেদের (২৭) সঙ্গে একইভাবে ‘বন্ধুত্ব’ হয় সুলতানার। এ অবস্থায় জানুয়ারিতে দেশে ফেরেন নবী। আর নবী ফেরার পর বিষয়টি জানতে পারে। এ নিয়ে নবীর সঙ্গে মতবিরোধ তৈরি হয় সুলতানার। এক পর্যায়ে নবী বিষয়টি তার প্রবাসী স্বামীকে জানানোর হুমকি দেন। 

এরই ফলশ্রুতিতে সুলতানা নবীকে বাড়িতে ডেকে এনে হত্যা করে। গোয়েন্দারা জানতে পারেন, নবীর ব্যক্তিগত কোনো শত্রু ছিল না। ফলে তার লাশ উদ্ধারের পর পুলিশ পড়ে চরম বিপাকে। কোনো ক্লু পাওয়া যাচ্ছিল না। পরবর্তীতে ব্যাপক অনুসন্ধানের পর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়। মামলার অপর আসামিরা হলেন সুলতান আহমেদ, সুলতানার ভাই ইস্কান্দার হোসেন ও বাবা ফারুক শাহ। তবে হত্যাকাণ্ডে ফারুক ও ইস্কান্দার জড়িত ছিলেন না। তারা ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর সুলতানাকে রক্ষা করতে লাশ গুমে সহায়তা করেন। নবীর কাছ থেকে ১ লাখ টাকা ধার নিয়েছিল সুলতানা (ছোট ভাইকে বিদেশে পাঠানোর জন্য)। সুলতান আহমেদের সঙ্গে সম্পর্ক জানাজানির পর থেকে নবী টাকার জন্য সুলতানাকে চাপ দিচ্ছিল। এ কারণেই সুলতানের প্ররোচনায় নবীকে হত্যার পরিকল্পনা করে সুলতানা। আর হত্যাকাণ্ডের পর সুলতানা তার প্রবাসী স্বামীকে ফোন করে জানায়, নবী খারাপ উদ্দেশে তার ঘরে প্রবেশ করেছিল। এ কারণে তাকে সে হত্যা করেছে। গ্রেফতারের পর সুলতানাকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন পড়েনি। সে নিজেই ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ২০১৪ সালের ১১ মার্চ আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। জবানবন্দি শেষে তাকেসহ আসামিদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
Share
Tweet
Pin
Share
No Comments

বয়স্ক ব্যক্তিরা নিজেরাই ইতিবাচক মনোভাব গঠন করতে পারেন। এ দায় নিজেদেরই নিতে হবে। অনেক সময় ব্যর্থতার জন্য আমরা অপরকে বা সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ঘটনাকে দায়ী করি। কিন্তু এরূপ না করে একটি বিশ্লেষণধর্মী ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরী করা দরকার। প্রত্যেকদিন সকালে আমাদের মনোভাবটি তৈরি করে নেওয়া সম্ভব। বয়স্ক ব্যক্তি হিসাবে আমাদের কাজের ও ব্যবহারের দায়িত্ব আমাদেরও নেওয়া উচিত।

১ম পর্বে পড়েন নি?? পড়ুন একটি সুসম্পূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি - ১ম পর্ব
২য় পর্বে পড়েন নি?? পড়ুন একটি সুসম্পূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি - ২য় পর্ব

নেতিবাচক মনোভাবের ব্যক্তিরা তাদের ব্যর্থতার জন্য অন্যকে দোষেন, তাদের মাতাপিতা, স্ত্রী, শিক্ষক, দেশের সরকার, অর্থনীতিকেও দোষারোপ করেন।  মনকে অতীতের বন্ধন থেকে মুক্তি দিতে হবে। পুরোনো ধুলো ঝেড়ে ফেলে জীবনের মূলধারায় প্রত্যাবর্তন দরকার। সব স্বপ্নকে সংহত করে দৃঢ় পদক্ষেপে এগিয়ে যেতে হবে। যেগুলি সৎ, সত্য এবং মহৎ, সেই সমস্ত ইতিবাচক বিষয়গুলি সম্পর্কে চিন্তা করতে করতেই মনের ইতিবাচক দিকটি সমৃদ্ধ হবে। যদি আমরা এই ধরনের মানসিকতা গঠন করতে চাই এবং তা স্থায়ী করতে চাই তবে সচেতনভাবে নিম্নলিখিত পদ্ধতিগুলি অনুশীলন করা দরকার:

প্রথম পদ্ধতি : লক্ষ্যের কেন্দ্রবিন্দু পরিবর্তন করে ইতিবাচক গুণের খোঁজ করা (Change focus, look for the positive) জীবনের সমস্ত ইতিবাচক বিষয়ের প্রতিই নজর দেওয়া দরকার। কোনও ব্যক্তির জীবনে কিংবা কোনও বিশেষ অবস্থায় যে উপাদান ও গুণগুলি কল্যানকর সেগুলির প্রতিই নজর দেওয়া উচিত। নেতিবাচক মানসিকতা কেবলমাত্র ত্রুটিগুলি দেখতেই অভ্যস্ত হয়ে যায়, ফলে দোষগুলিই দেখা হয়, কল্যানকর দিকটি নজরে আসে না।
দোষ দেখাই যাদের স্বাভাব তারা স্বর্গেরও ক্রটি বের করতে পারেন। বেশিরভাগ মানুষই যা দেখতে ইচ্ছা করেন তাই বড় করে দেখেন। যদি তারা মানুষের মধ্যে বন্ধুত্ব, আনন্দ এবং অন্যান্য ইতিবাচক গুণাবলীর খোঁজ করেন তবে তাই পাবেন; আর যদি তাদের মধ্যে বিসম্বাদ বা ঐদাসীন্য দেখতে চান তবে তাও পাবেন। মানুষের মধ্যে ভালোমন্দ দুই০ই আছে। তাই স্মরণ রাখা দরকার যে ইতিবাচক গুণগুলি খোঁজ করা ব প্রাধান্য দেওয়ার অর্থ এই নয় যে ত্রুটিগুলিকে অগ্রাহ্য করা।

সোনার খোঁজে (Looking for the gold)  এ্যান্ড্রু কার্নেগী নামে একজন স্কট বাল্যবয়সে আমেরিকায় এসে নানা ধরনের খুচরো কাজ করতে শুরু করেন। তিনি জীবন শেষ করেন আমেরিকার একজন বৃহত্তম ইস্পাত প্রস্তুতকারী হিসেবে। একসময়ে ৪৩জন বিপুল ঐশ্বর্য্য হিসেবে বিবেচিত হোত, আজও তা কিছু কম ঐশ্বর্য্য নয়। জনৈক ব্যক্তি একদিন কার্নেগীকে জিজ্ঞেস করলে তিনি কিবাবে মানুষের সঙ্গে ব্যবহার করেন। এ্যান্ড্রু কার্নেগী জবাব দিলেন, “মানুষ নিয়ে কারবার করা যেন সোনার জন্য মাটি খোঁড়ার মত। এক আউন্স সোনার জন্য টনের পর টন মাটি কাটতে ও সরাতে হয়। কিন্তু সোনাই খোজা হয়, মাটি নয়।”

আসল কথা, আমাদের নজর কোনটার উপর। নজরটা সোনার উপর থাকুক মাটির উপর নয়। মানুষের মধ্যেও যদি দোষত্রুটি খোঁজ হয়, তবে মাটির মতো, তা অনেক পাওয়া যাবে। প্রশ্ন হচ্ছে আপনি কী খুঁজছেন? এ্যান্ড্র কার্নেগীর জবাবের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ কথা আছে। সব অবস্থাতেই প্রত্যেক মানুষের মধ্যে কিছু ইতিবাচক দিক আছে। অনেক সময় হয়ত গভীর অনুসন্ধান করে ইতিবাচক গুণাবলীর সন্ধান করতে হয়; কারণ তা সহজে নজের আসে না। তাছাড়া, আমরা অন্য মানুষের ত্রুটি দেখতে এত অভ্যস্ত যে ভালো দিকটি সাধারণ আমাদের নজরে আসে না। সব মানুষেরই কিছু ইতিবাচক দিক আছে, এই কথার দৃষ্টান্ত হিসাবে একজন বলেছিলেন যে একটা বন্ধ হয়ে যাওয়া ঘড়িও দিনে দু’বার সঠিক সময় দেখিয়ে থাকে। স্মরণ রাখা প্রয়োজন, যখন আপনি সোনার খোঁজ করেন তখন এক আউন্স সোনার জন্য আপনাকে টন টন মাটি সরাতে হয়; কিন্তু আপনি খোঁজেন সোনাই, মাটি নয়।

“নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির মানুষ সব সময়েই সমালোচনা করবে”

কিছু লোক আছেন যারা পক্ষ-বিপক্ষ বিচার না করে সব সময়েই সমালোচনা করেন। সমালোচনাই তাদের জীবিকা। সমালোচনা তাদের জীবন। তারা প্রায় বিজয়ীর লক্ষ্য ও একাগ্রতা নিয়ে সমালোচনা করেন। প্রতিটি মানুষের মধ্যে প্রত্যেক অবস্থায় তারা কিছু ত্রুটি খুঁজে বার করবেনই, এবং বিশ্বসুদ্ধ সবাইকে ত্রুটির জন্য দোষারোপ করবেন। এই ধরনের মানুষকে বলা যায় ‘শক্তিশোষক’- তারা সমস্ত শক্তি শোষণ করে নেন। এরা কাফেটোরিয়াতে গিয়ে ক্লান্তি অপসারণের নামে বিশ কাপ চা-কফি গলাধঃকরণ করেন, মনের সুখে ধূমপান করেন এবং অজস্র নিন্দামন্দ করেন। তারা শুধু নিজেদেরই মধ্যেই নয়; আশেপাশে যারা থাকেন সবার মধ্যেই একটা চাপা উত্তেজনার সৃষ্টি করেন। প্রকৃতপক্ষে, ছোঁয়াচে রোগের ন্যায় তারা একটি নঞর্থক বাণী বহন করেন এবং এমন একটি পরিবেশের সৃষ্টি করেন যেখানে কেবল নেতিবাচক ফলই পাওয়া যায়।
রবার্ট ফুলটন বাষ্পীয় পোত আবিষ্কার করেছিলেন। হাডসন নদীতে যখন তিনি তার নুতন আবিষ্কার প্রদর্শনের আয়োজন করছিলেন তখন কিছু নিরাশবাদী ও সংশয়ী ব্যক্তি জড়ো হয়ে বলাবলি করছিল যে জাহাজ কখনও চলবে না। দেখা গেল জাহাজ চলছে এবং সেটি নদী দিয়ে এগিয়ে গেল। তখন যারা জাহাজ চলবে না বলে মন্তব্য করেছিল তারা চিৎকার করে বলতে লাগল, জাহাজ কখনও থামবে না। সবকিছুর নেতিবাচক দিক দেখার কী আশর্য মানসিকতা!

চলবে পরবর্তী পর্বগুলোতে বাকি পদ্ধতিগুলো প্রকাশ করা হবে।
Share
Tweet
Pin
Share
No Comments
দৃষ্টিভঙ্গি,-holistic-approach

ইতিবাচক মনোভাবের মানুষ কিভাবে চেনা যাবে? (How do you recognize people with a positive attitude?)

একজন মানুষ অসুস্থ না হলেই যেমন তাকে সুস্বাস্থ্যের অধিকারী বলা যাবে না তেমনি নেতিবাচক মনোভাব না থাকলেও কাউকে ইতিবাচক মনোভাবসম্পন্ন বলে চিহ্নিত করা যাবে না। ইতিবাচক মনোভাবসম্পন্ন মানুষের কিছু বৈশিষ্ট্য সহজে নজরে পড়ে। তারা দয়ালু, আত্মবিশ্বাসী, ধৈর্যশীল এবং নিরহঙ্কার। তারা নিজেদের সম্পর্কে এবং অন্যের সম্পর্কেও উচ্চ আশা পোষণ করেন এবং সব কাজেইিইতিবাচক ফল প্রত্যাশা করেন। যাদের মনোভাব ইতিবাচক তারা বারমাসি ফলের মতো, সব সময়েই সুস্বাদু ও তাই তারা সবসময় স্বাগত।

১ম পর্বে পড়েন নি?? পড়ুন একটি সুসম্পূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি - ১ম পর্ব

ইতিবাচক মনোভাবের সুবিধ (The benefits of a positive attitude)
এই মনোভাবের সুফল অনেক এবং সহজে তা নজরেও পড়ে। অবশ্য যা সহজে নজরে পড়ে তা সহজে নজর এড়িয়েও যেতে পারে। যাইহোক কয়েকটি সুবিধা উল্লেখ করা যায়।
• উৎপাদনশীলতা বাড়ায়
• সঙ্ঘবদ্ধভাবে কাজের পরিবেশ সৃষ্টি করে
• সমস্যার সমাধানে সাহায্য করে
• কাজের উৎকর্ষ বাড়ায়
• সৌহার্য্উপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি করে
• আনুগত্যের মনোভাব তৈরি করে
• মুনাফা বাড়ায়
• কর্মচারী, মালিক ও ক্রেতাদের মধ্যে সম্পর্কের উন্নতি করে
• মানসিক চাপ কমায়
• সমাজের সহায়ক সদস্য হতে সাহায্য করে
• একজন ভালো ব্যক্তিত্বসম্পন্ন মানুষ হিসেবে সমাজে পরিচিত হতে সাহায্য করে।

নেতিবাচক মনোভাবের ফলাফল (The consequences of a negative attitude)
জীবনে অনেক বাধাবিপত্তি অতিক্রম করে এগিয়ে যেতে হয়, এবং অনেক সময় আমাদের নেতিবাচক মনোভাবই সবচেয়ে বড় বাধার সৃষ্টি করে।এই মনোভাবের ফলে বন্ধুত্ব ও চাকরি রক্ষা করা, কিংবা সামাজিক ও দাম্পত্য সম্পর্ক রক্ষা করাও কঠিন হয়ে ওঠে। এরূপ মনোভাবের ফলে,
• তিক্ততার সৃষ্টি হয়
• ক্ষোভের ও অসহিষ্ণুতার সৃষ্টি হয়
• জীবন উদ্দেশ্যহীন হয়ে পড়ে
• অসুস্থতার শিকার হতে হয়
• নিজের ও ঘনিষ্টদের উপর মানসিক চাপ বাড়ে, পরিবারের মধ্যে এবং কর্মস্থলে এমন একটি নেতিবাচক আবহাওয়া সৃষ্টি করে যা কারোর পক্ষে মঙ্গলদায়ক নয়। এরূপ মনোভাব ধীরে ধীরে শুধু ঘনিষ্টদের সংক্রামিত করে না, পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যেও সঞ্চায়িত হয়।

ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি গঠনের পদ্ধতি (Step to building a positive attitude)
মানুষের স্বভাব পরিবর্তনের পরিপন্থী। পরিবর্তন অস্বস্তিকর। বাল্যকালেই সারাজীবনের জন্য মানস-গঠন সম্পন্ন হয়ে যায়। সবচেয়ে ভালো হয় যদি সেই বছরগুলিতে ইতিবাচক মানসিকতা গড়ে ওঠে। কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে ঘটনাচক্রে যদি বাল্যকালে নেতিবাচক মনোভাব গড়ে ওঠে তবে তা সারাজীবন বহন করে চলতে হবে। এরূপ মনোভাবের পরিবর্তন করা যায় কিন্তু তা খুব সহজসাধ্য নয়। কিভাবে ইতিবাচক মনোভাব গড়ে তুলতে হয়?
• যে আদর্শগুলি ইতিবাচক মনোভাব গড়ে তুলতে সাহায্য করে সে সম্পর্কে অবহিত হওয়া।
• ইতিবাচক মনোভাব অর্জন করার আকাঙ্খা।
• আদর্শগুলি সার্থকভাবে অনুসরণের জন্য শৃঙ্খলাবোধ ও নিষ্ঠার অনুশীলনের প্রয়োজন।

পড়ুন ৩য় পর্ব একটি সুসম্পূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি - ৩য় পর্ব
Share
Tweet
Pin
Share
No Comments
If the girl does not have a father, then the life of her family is a lot of trouble.

যেই মেয়ের বাবা না থাকে তার সংসার জীবন অনেক কষ্টের হয়। স্বাভাবিক ভাবেই সংসার জীবনটা একরকম যুদ্ধই কিন্তু এরপরও দুজনের ত্যাগের দ্বারা যেই ভালো সময় ও সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়া সম্ভব তা অন্য কোন ভাবে সম্ভব না।

বাবা যতই রাগী, বদ মেজাজী, মুর্খ হউক তিনি তার সন্তানের জন্য সবচাইতে বেশি গুরুত্বপূ। সংসার জীবনে শশুর না থাকলে মেয়েকে দাম দিতে চায়না এ সমাজ যদিও প্রথম দিকের মোহ খুব ভালোবাসা দেখিয়ে একটা ভরসা তৈরী করে কিন্তু একটা সময় হেলাফেলাতেই চলতে থাকে সময়..

স্বামী অন্য পতিতা সমতুল্যদের সাথে হেসেখেলে দিন পার করে বাসায় ফিরে..
- ওই ভাত দে
- ঘরে তো কিছুই নাই, বাচ্চা দুইটারে ডাইল দিয়া দুপুরের পানি ভাত খাওয়াইছি।
- তর এই বাজার, বাজার ঘ্যান ঘ্যান আর ভাল্লাগেনারে...

এটা দৈনিকের রুটিন, এছাড়াও বউকে কোথাও ঘুরতে নিয়ে যায় না, ছেলে মেয়েগুলার প্রতি তেমন খেয়াল থাকেনা, সেও তো একটা বাবা সে হিসেবে দায়ে পড়ে যা পারে করে আরকি!, কিন্তু বউয়ের কি লাগবে, তার স্বাদ-আহ্লাদ সব খুন করে পেটে ভাতে রাধুনীর মতো পাশে রাখে, পারলে তো তাকে দিয়ে কাজ করতেও ফ্যাক্টরীতে পাঠায় "যৌতুক দিতে পারিস না আর ঘরে বসে খাবি!!”।

আজকালকার গার্মেন্টস্ কর্মীদের অধিকাংশের জীবনের ঘটনা হিসেবে এটা ডাল ভাত, সকালে ঘুম থেকে উঠে রান্না-বান্না করে ছেলে মেয়েকে খাওয়ানোর পর দুপুরের জন্য টিফিন বক্সে ভাত-ডাল নিয়ে ছুটে আবার রাত ৯ টা ১০ টার দিকে এসে রান্না বান্না করে স্বামী সন্তানদের আহারের ব্যবস্থা করে ঘুমোতে ঘুমোতে ১২টা, এর মধ্যে চুলার জন্য সিরিয়াল আর সারা দিনের পরিশ্রম তো আছেই অনেক সময় গ্যাসই থাকেনা, আবার ভোর ৫টায় না উঠলে চুলা পাওয়া যাবে না।

অবহেলিত যোদ্ধাদের যদি মায়ের বাড়ী যেতে হয় তবে একাই যেতে হয়, স্বামী শুধু বলে " যা, তোর তো আবার গেলে আইতে মন চায়না" আর আসার ফিরার সময় একা আসতে হয়। এর মধ্যে খোজ খবর নেওয়ার জন্য যতনা কল যায় তার চেয়ে বেশি যায় ”কবে আসবি” ধরনের।

এই ঘটনাগুলো শুধু এতিম মেয়েদের না এগুলো 
নিম্ন ও মধ্যবিত্ত দের ঘরেও দেখা যায়।

অথচ একই ব্যক্তি ভাব নিয়ে প্রেম করে বেড়ায় লুচ্চা-গুন্ডি, বেহায়া, বেশরম, পেশাদারী, উচ্চ বিলাসী, ধান্দাবাজির টাকায় সাজগোজ করে বুক ফুলিয়ে নানা অংগভংগী করে সম্মোহনী নারীগুলোর সাথে।

সবকিছুর বিপরীতে যদি স্বামী তার সব দায়িত্বগুলো যথাযথভাবে পালন করতো তাহলে কতই না উত্তম হতো, স্ত্রী রাও যদি তাদের দায়িত্বগুলো সুন্দরভাবে পালন করতো তবে কতই না উত্তম হতো। পরকীয়াও কমে যেতো, পতিতাবৃত্তিও কমতো, নিজ ও সমাজে শৃংখলাও বাড়তো।

এ সমাজ টাকা পয়সা আর নানা অযুহাতে সময়মত যথাযথভাবে বিয়ে না দিয়ে নানান অপকর্ম বাড়াচ্ছে আর প্রেম নামক নোংরামীর কথা বলে পোষ্ট বড় করতে চাচ্ছিনা, অন্য একদিনের জন্য রেখে দিলাম।

উপরোক্ত কথাগুলোর অসঙ্গতি সম্পর্কে সচেতন হউন, সুন্দর সমাজ বিনির্মানে আপনি আপনার দায়িত্ব পালন করুন। ভালো থাকুন।

- আব্দুল হাকীম
এডমিন, জানতে হবে
Share
Tweet
Pin
Share
No Comments

এক মানুষ সম্পর্কে একটি সুসম্পূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি নেওয়া উচিত। মানুষ কেবল দু’টো হাত বা দু’টো পা নয়। সমস্ত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ, মেধা-হৃদয় মিলিয়ে যে মানুষ সেই কাজে যায়, আবার কাজ থেকে ঘরে ফিরে আসে। আমরা পারিবারিক সমস্যা কাজের জায়গায় নিয়ে যাই, আবার কাজের সমস্যা পরিবারের মধ্যে নিয়ে আসি। পারিবারিক সমস্যা মাথা নিয়ে কাজের জায়গায় গেলে কী হয়? মানসিক চাপ বেড়ে যায়, ফলে উৎপাদনে ঘাটতি পড়ে। অন্যদিকে কাজের সমস্যা ও অন্যান্য সামাজিক সমস্যায় বিব্রত থাকলে জীবনের অন্যান্য ক্ষেত্রেও তার প্রভাব পড়ে।

যে উপাদানগুলি মনোভাব নির্ধারিত করে 

আমরা কি আমাদের মনোভাব নিয়ে জন্মাই, কিংবা ীবনে অভিজ্ঞতা সঞ্চয়ের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের মনোভাব ও দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলি? কী কী উপাদান আমাদের মানসিকতা গঠন করে?

পারিপার্শ্বিক অবস্থার ফলেই  নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি গঠিত হয় এবং সেই দৃষ্টিভঙ্গি কি পরিবর্তন করা যায়? জীবনের গঠনশীল বছরগুলিতেই আমাদের মানসিকতা নির্দিষ্ট আকার নিতে শুরু করে।

প্রধানত তিনটি উপাদান আমাদের মনোভাব গঠন করতে সাহায্য করে। সে তিনটি হল :
১. পরিবেশ
২. অভিজ্ঞতা
৩. শিক্ষা

প্রত্যেকটিকে পৃথকভাবে মূল্যায়ন করা যাক -

১. পরিবেশ (Environment)
নিম্নলিখিত বিষয়গুলি নিয়ে পরিবেশ তৈরি হয়:

  • পরিবার:  ইতিবাচক  ও নেতিবাচক দু’রকম প্রভাব সৃষ্টি করে।
  • শিক্ষাক্ষেত্র : সহপাঠীদের প্রভাব।
  • কর্মক্ষেত্র : সহানুভূতিশীল ও সাহায্যকারী কর্মকর্তা কিংবা অতিরিক্ত সমালোচনাকারী উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা।
  • সংবাদমাধ্যম : টেলিভিশন, খবরের কাগজ, সাময়িকপত্র, বেতার, সিনেমা।
  • সাংস্কৃতিক পশ্চাদপট ও পরিমন্ডল।
  • ধর্মীয় উত্তরাধিকার ও পরিমন্ডল।
  • পরম্পরা ও সংস্কার।
  • সামাজিক পরিবেশ।
  • সমসাময়িক রাজনৈতিক চক্র।
এই সমস্ত একটি সাংস্কৃতিক অবস্থা সৃষ্টি করে। পরিবার, সংগঠন কিংবা স্বদেশ- প্রত্যেকটিরই একটি বিশেষ সাংস্কৃতিক অবস্থা আছে।  

নিশ্চয়ই লক্ষ্য করেছেন, কোনও কোনও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বিক্রেতা, তত্ত্বাবধায়ক, ম্যানেজার, মালিক সকলেই বেশ ভদ্র। আবার কোনও কোনও প্রতিষ্ঠানে দেখা যাবে প্রত্যেকেই ব্যবহার বেশ রূঢ় ও অভদ্রজনোচিত। একেকটি পরিবারে বাচ্চারা ও তাদের বাবা-মা ভদ্র, বিবেচক ও মার্জিত ব্যবহারে অভ্যস্ত; আবার অন্য পরিবারে একে অন্যের সঙ্গে বিশ্রীভাবে ঝগড়া করে।

যে সব দেশে রাজনৈতিক অবস্থা পরিচ্ছন্ন এবং সরকার সৎভাবে পরিচালিত হয়, সে সমস্ত দেশে সাধারণত জনসাধারণও সৎ, অপরকে সাহায্য করতে উৎসুক এবং আইন মেনে চলতে অভ্যস্ত। এর উল্টোটাও ঠিক। অর্থাৎ যেখানে সরকার অসৎ  সেখানে একজন সৎ ব্যক্তি বিপদের সম্মুখীন হন।  আবার যেখানে অবস্থা সৎ ও পরিচ্ছন্ন সেখানে একজন ভ্রষ্টাচারী অসুবিধার সম্মুখীন হন। যেখানে একটি ইতিবাচক কাজের আবহাওয়া আছে সেখানে নেতিবাচক অবস্থা তৈরী করতে একজন দক্ষ অসৎ ব্যক্তির দক্ষতা কম ফলপ্রসু হয়।

যে কোন সংস্থার কর্মধারার আদর্শ উপর থেকে সরে যায়, মাঝে মাঝে সংস্থার কর্মকর্তাদের পিছন ফিরে তাকিয়ে বিচার করার প্রয়োজন যে তারা সহকর্মীদের জন্য কী ধরনের কাজের আবহাওয়া সৃষ্টি করেছেন। একটি নেতিবাচক অবস্থার মধ্যে ইতিবাচক কর্মোদ্যম সৃষ্টি করা দু:সাধ্য। যেখানে আইন না মেনে চলাই নিয়ম হয়ে গেছে সেখানে সৎ নাগরিক যে ঠগ, জোচ্চর ও  চোর হয়ে উঠবে, তাতে আশ্চর্য্য কী? যে অবস্থা / পরিবেশের মধ্যে আমরা বাস করি বা যা আমরা অন্যদের জন্য তৈরী করেছি তারও মূল্যায়ন করার প্রয়োজনীয়তা আছে।

২. অভিজ্ঞতা (Experience)
জীবনে নানা ঘটনার অভিঘাতে এবং নানান মানুষের সঙ্গে মেশার অভিজ্ঞতায় আমাদের ব্যবহারেও পরিবর্তন ঘটে। যদি কোনও ব্যক্তির সংস্পর্শে এসে আমাদের ইতিবাচক অভিজ্ঞতা হয় তবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গিও হবে ইতিবাচক, আবার অভিজ্ঞতা নেতিবাচক হলে দৃষ্টিভঙ্গিও হবে নেতিবাচক।

৩. শিক্ষা (Education)
 এখানে প্রথানুযায়ী শিক্ষা এবং স্কুল-কলেজের বাইরে হাতে কলমে শিক্ষার কথা বলা হচ্ছে; কেবলমাত্র ডিগ্রির কথা নয়। জ্ঞানকে পরিকল্পনামাফিক ও অভিজ্ঞতার নিরিখে প্রয়োগ করলে তা হয় বিজ্ঞতা। বিজ্ঞতা সাফল্য নিশ্চিত করে। ব্যাপক অর্থে শিক্ষার কথা বলা হচ্ছে। এই শিক্ষায় শিক্ষকের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে। একজন প্রকৃত শিক্ষকের প্রভাব চিরন্তন। বৃহৎ তরঙ্গ থেকে অজস্র ক্ষুদ্র তরঙ্গভঙ্গের মতো, তার প্রভাব সদাবিস্তৃ এবং বস্ততপক্ষে অপরিমেয়। আমরা তথ্যের ভাবের আকণ্ঠ নিমজ্জিত, কিন্তু জ্ঞান ও বিজ্ঞতার অভাবে তৃষ্ণার্ত। শিক্ষা কেবল জীবিকা অর্জনের পথ নির্দেশ করে না, কিভাবে জীবনযাপন করতে হয় তারও শিক্ষা দেয়।

২য় পর্ব পড়ুন একটি সুসম্পূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি - ২য় পর্ব
Share
Tweet
Pin
Share
No Comments
পরের পিঠা, লাগে মিঠা - বড় রোগের সহজ সমাধান!
কর্মক্ষেত্রে বিপরীত লিঙ্গের কলিগের সঙ্গে একটু ক্যাজুয়াল হলেই অনেকে সাংসারিক ব্যক্তিগত সমস্যার কথা শেয়ার করতে শুরু করেন। তখন কলিগ আহা! উহু! করে সিমপ্যাথি দেখিয়ে খুব জ্ঞানগর্ভ সাজেশন দেন।

এত দরদ দেখে মনে হতে পারে এ আমাকে যত বোঝে আমার বর/বউ তো কখনোই তত বোঝে না। এ প্রসঙ্গে কবি বলেছেন- পরের পিঠা, লাগে মিঠা।
এখান থেকেই শুরু.... নিজের জনের সঙ্গে ছাড়াছাড়ি। মিথ্যা স্বপ্ন দেখে আরেকজনকে ধরাধরি।

কিন্তু আসলে কেউই সুপারম্যান বা সুপারউইম্যান না। সবাই অ্যাভারেজ মানুষ। একদিক দিয়ে দোষ থাকলে আরেকদিকে গুণ থাকবে। কেউই কারও থেকে অ্যাবসলিউটলি সুপিরিয়র না।

এটা একসময় বুঝে আসে। স্বপ্নভঙ্গের পরেও দ্বিতীয় বিয়ে টিকে যায়। কারণ তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম, ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম ইত্যাদি বিয়ে করা এত সহজ বা প্র‍্যাকটিক্যাল না। যদি না আপনি এলিজাবেথ টেইলর হয়ে থাকেন। তিনি সাতজন হাজব্যান্ডকে আটবার বিয়ে করেছিলেন। আমার স্কুল বদলের রেকর্ডের থেকেও বেশি। আমি ছয়টা স্কুলে সাতবার পড়েছিলাম।

এটাও একদিন বুঝে এসে যায় যে, মানুষমাত্রই দোষে-গুণে অ্যাভারেজ। এই অ্যাভারেজ একটা মানুষকে নিজের কাছে স্পেশাল করে নিতে হয় নিজের চেষ্টায় এবং ধৈর্যে। সে পুরো পৃথিবীর কাছে অ্যাভারেজ হলেও একজনের কাছে হবে সুপারম্যান/সুপারউইম্যান।

প্রথমেই একটু ধৈর্য রাখলে এই ভাঙাগড়া করতে হতো না। এটা একটা সামাজিক রোগ। যে কোনো রোগপ্রতিকারের থেকে প্রতিরোধ করা সহজ। এই রোগের প্রতিরোধক হলো- বাইরের কারও সঙ্গে নিজের সংসারের প্রাত্যহিক ঘটনাবলি শেয়ার না করা।

বড় রোগের সহজ সমাধান।
Share
Tweet
Pin
Share
No Comments
Older Posts

About me

About Me

Aenean sollicitudin, lorem quis bibendum auctor, nisi elit conseat ipsum, nec sagittis sem nibh id elit. Duis sed odio sit amei.

Follow Us

  • facebook
  • twitter
  • instagram
  • Google+
  • pinterest
  • youtube

Categories

recent posts

Sponsor

Facebook

Blog Archive

  • অক্টোবর 2019 (1)
  • আগস্ট 2018 (16)
  • জুলাই 2018 (5)

Created with by ThemeXpose